নেত্রকোনায় মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১১) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ওই মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপারের নাম আব্দুল হালিম ওরফে সাগর (৩৫)। তিনি কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের চর-আমতলা কোনাবাড়ি গ্রামের ফারুখ মিয়ার ছেলে এবং দুই সন্তানের পিতা। 

রোববার (১৯ জানুয়ারি) তার নামে মামলা করেন ওই ছাত্রীর বাবা। ছাত্রীটির বাবা মাদ্রাসাটির পরিচালনা কমিটিরও সভাপতি।

এদিকে, ধর্ষণের শিকার মাদ্রাসা ছাত্রীকে কবিরাজি ওষুধ খাওয়ানোর পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্ত করতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শাহজাহান মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ছাত্রীর অভিভাবকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

পুলিশ জানায়, আব্দুল হালিম ওরফে সাগর রোয়াইলবাড়ি বাজারের কাছে ‘রোয়াইলবাড়ি আশরাফুল উলুম জান্নাতুল মাওয়া’ নামে একটি কওমি মাদ্রাসা পরিচালনা করেন। বিভিন্ন এলাকার ১০-১৫ জন ছাত্রী ওই মাদ্রাসার বোর্ডিংয়ে থেকে লেখাপড়া করে।

জানা যায়, প্রায় তিন-সাড়ে তিন মাস আগে মাদ্রাসার সুপার আব্দুল হালিম বোর্ডিংয়ের এক ছাত্রীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। কিন্তু লজ্জায় মেয়েটি ধর্ষণের ঘটনাটি গোপন রাখে। ওই ঘটনার কিছুদিন পর মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। তখন ওই ছাত্রী বিষয়টি সুপারকে জানায়। আব্দুল হালিম গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে কলার ভিতর কবিরাজি ওষুধ পুরে তাকে খেতে দেয়। ওষুধ খেয়ে মেয়েটি বাড়িতে চলে যায়। বাড়িতে যাওয়ার পর ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় মেয়েটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তখন তার বোন ও পরিবারের অন্যান্য স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদের পর মেয়েটি প্রকৃত ঘটনা খুলে বলে। 

ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর সুপার আব্দুল হালিম বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মিমাংসার চেষ্টা চালায়। অসুস্থ ছাত্রীটিকে অন্য এলাকায় সরিয়ে নিয়ে গ্রাম্য ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা করায়। কিন্তু তাতেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় অবশেষে কেন্দুয়া থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন তার বাবা।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে রোববার রাতে মামলা রেকর্ড করা হয়। এছাড়া অসুস্থ ছাত্রীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটির অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

কেন্দুয়া থানার ওসি রাশেদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ প্রাপ্তির পরপরই আসামী আব্দুল হালিমকে গ্রেপ্তারের জন্য এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সে আত্মগোপন করে আছে। তাকে গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে। 

 262 total views,  3 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top