বার্সেলোনা যেন মাছ বাজারের ক্রেতা

বাংলাদেশের যে কোনো একটা মাছ বাজারের কথা চিন্তা করুন।

প্রচুর লোকের আনাগোনা দেখতে পাবেন, মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় করা ছা-পোষা বাঙালির সংখ্যাই বেশি। ইলিশ, গলদা চিংড়ি, বোয়াল, আইড়, রুপচাঁদা, পাবদার মতো সুস্বাদু মাছ খেতে ইচ্ছে হলেও কত জনেরই বা সামর্থ্য থাকে সেসব মাছ কেনার? শেষমেশ দেখা যায় পকেটের কথা চিন্তা করে রুই, পুঁটি বা কার্প মাছেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। তা যে মাছই কেনা হোক না কেন, দামাদামি করতে তো আর বাধা নেই। ফলে মাছের বাজারে হই-হট্টগোল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। ক্রেতারা এসে মাছ দাম করছেন। কখনো হয়তো মাছ পছন্দ হচ্ছে না, আবার কখনো মাছ পছন্দ হলেও দামে মিলছে না। আবার যে মাছটা সবচেয়ে বেশি পছন্দ, সে মাছটা হয়তো আরেক জন কিনে কাটতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। সাধের সঙ্গে সাধ্য ও অন্যান্য পরিস্থিতির মেলবন্ধন হয় সামান্যই।

একই অবস্থা যেন হয়েছে বার্সেলোনার। ‘মাছ কিনতেই হবে’—এই মনোভাব নিয়ে বাজারে যাওয়া মানুষ যেভাবে হন্য হয়ে মাছ খোঁজেন, শীতকালীন দলবদল নামের এই ‘মাছ বাজারে’ বার্সেলোনা তেমনি খুঁজছে স্ট্রাইকার।

গত এক বছর ধরেই লুইস সুয়ারেজের জায়গায় নতুন স্ট্রাইকার আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বার্সেলোনা। পায়নি কাউকেই। এখন আবার সুয়ারেজ পড়েছেন চোটে। আগামী মৌসুমের আগে বার্সেলোনার জার্সি গায়ে আর মাঠে নামতে দেখা যাবে না ৩৩ বছর বয়সী উরুগুইয়ান স্ট্রাইকারকে। ফলে আরও ঝামেলায় পড়েছে বার্সেলোনা। মূল একাদশে খেলানোর মতো স্ট্রাইকার খুঁজছে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু নিজেদের ‘বি’ দলে যেসব স্ট্রাইকার ছিল, তাদেরও সুযোগ দিতে রাজি নয় ক্লাবটি। কার্লেস পেরেসকে এএস রোমার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়ে গেছে, আরেক তরুণ স্ট্রাইকার আবেল রুইজকে ধারে পাঠানো হয়েছে পর্তুগিজ ক্লাব ব্রাগায়।

আর অন্যদিকে স্ট্রাইকার-খোঁজ চলছেই। এই স্ট্রাইকার খুঁজতে গিয়ে গোটা মাস ধরে বার্সেলোনা যা করছে, তা একই সঙ্গে জন্ম দিয়েছে হাস্যরস ও সমালোচনার।

বার্সেলোনার স্ট্রাইকার খোঁজা শুরু হয় লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির মেক্সিকান স্ট্রাইকার ও আর্সেনালের সাবেক তারকা কার্লোস ভেলাকে দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএসে গিয়ে আলো ছড়ানো ৩০ বছর বয়সী ভেলাকে গত এক বছর ধরেই স্প্যানিশ ক্লাবটি নজরে রেখেছে বলে শোনা যাচ্ছিল। এমএলএসের আরেক মেক্সিকান খেলোয়াড় জোনাথান দস সান্তোস স্বদেশি ভেলার প্রতি বার্সেলোনার আগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু পরে সে চুক্তিটা হয়নি।

এরপর এলেন লওতারো মার্তিনেজ। ভেলার মতো গত এক বছর ধরে মার্তিনেজও ছিলেন বার্সার নজরে। কিন্তু ইন্টার মিলান সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, তাঁদের এই রত্নটিকে নিতে ‘বাই আউট ক্লজে’র (খেলোয়াড়ের বর্তমান ক্লাবের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে কিনতে গেলে আগ্রহী ক্লাবকে যে অর্থ পরিশোধ করতেই হবে) পুরো ১১ কোটি ১০ লাখ ইউরো পরিশোধ করতে হবে বার্সেলোনাকে। তা-ও সামনের যে কোনো দলবদলের সময়, মৌসুমের মাঝপথে এই জানুয়ারিতে এমন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়তে রাজি নয় ইন্টার। ফলের বার্সাও অত চেষ্টা করেনি লওতারোকে পাওয়ার, আগামী মৌসুমে হয়তো করবে আবার।

 236 total views,  1 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top