ধর্ষণের পর হত্যা…

বগুড়ার শিবগঞ্জে ধর্ষণের পর শিশু সাদিয়া খাতুনকে (৮) ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা নিশ্চিত করে তার আপন চাচাতো ভাই নাইম ইসলাম। পরে তাকে পাশের আলু ক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যায়। শনিবার বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আসমা মাহমুদের কাছে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে নাইম ইসলাম এ জানিয়েছে।  

নাইম ইসলাম (১৫) শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের নান্নু মিয়ার ছেলে।

সে ভরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। নিহত সাদিয়া উপজেলার তালিবপুর পুর্বপাড়া গ্রামের দিনমজুর শাহিনুর রহমানের মেয়ে। সে কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলো।

মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইন চার্জ সনাতন সরকার আদালতে ১৬৪ ধারায় নাইমের দেওয়া জবাববন্দির বিষয়ে জানান।  
বুধবার রাতে তালিবপুর গ্রামে এক পীরের আস্তানায় জিকিরের আয়োজন করা হয়। সাদিয়া অন্যান্যদের সঙ্গে সেখানে যায়। সন্ধ্যার দিকে ফেরার সময় সাদিয়াকে বাড়ি  পৌঁছানোর কথা বলে নাইম তাকে পাশের কলা ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে।পরে সাদিয়া জ্ঞান হারায়। তখন অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে ফেলে রেখে বাড়ি গিয়ে একটি ছুরি নিয়ে আসে নাইম। সেই ছুরি দিয়ে সাদিয়াকে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পাশের আলু ক্ষেতে লাশ ফেলে রাখে সে।  

এর আগে বুধবার নিখোঁজ হয় সাদিয়া। সন্ধ্যা পর্যন্ত সে বাড়ি না ফিরলে এলাকায় মাইকিং করা হয়। এছাড়াও রাতভর বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও তাকে পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ি থেকে ৫শ গজ দূরে আলু  ক্ষেতে সাদিয়ার গলাকাটা মরদেহ পাওয়া যায়।

পুলিশ দুপুরে মরদেহটি উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল ও কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় সাদিয়ার বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি আসামি করে থানায় মামলা করেন। ঘটনা তদন্ত করে পুলিশের সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল নাইমকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে পুলিশের কাছে সাদিয়াকে ধষর্ণের পর হত্যার কথা স্বীকার করে।  

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, প্রথম থেকেই পুলিশের সন্দেহের তালিকায় ছিল নাইম। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে  সে সাদিয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং হত্যার বর্ণনা দেয়। সে প্রথমে তাকে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের পর মেয়েটির অবস্থা খারাপ হলে, বাড়ি থেকে ছুরি নিয়ে এসে তাকে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর লাশ আলুর জমির মধ্যে ফেলে রেখে যায়। শনিবার নাইমকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে নাইম ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। বর্তমানে সে জেলা কারাগারে রয়েছে।

 240 total views,  2 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top