অসহায় দিন কাটাচ্ছে বিএসএফের হাতে আটক ৫ জেলে পরিবার

আট মাসের শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে স্বামীর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে বীথি খাতুন বলেন, ‘তার বাবা মারা যাবার পর পরিবারের একমাত্র আয়-রোজগার করতেন তার স্বামী শাহিন। প্রতিদিনের মতো গত ৩১ জানুয়ারি শাহিন বাড়ির পাশে পদ্মা নদীতে মাছ ধরছিল। এসময় স্পীড বোর্ডে করে কয়েকজন বিএসএফ সদস্য বাংলাদেশের সীমানায় ঢুকে শাহীনসহ পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে যায়। শাহিন এখন কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে, আমরা জানি না।’ বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বীথি।

বীথির মতো পদ্মা থেকে বিএসএফ কর্তৃক ধরে নিয়ে যাওয়া পাঁচ জেলের পরিবারসহ মৎস্যজীবী সমিতি ও এলাকাবাসি মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মানববন্ধন করে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের আলীমগঞ্জে। পাঁচ জেলেকে ফেরত আনার দাবিতে করা মানববন্ধনে জেলে পরিবারের সদস্যরা কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

আড়াই বছরের শিশুকে কোলে নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছিলেন অপহৃত কাবিল হোসেনের স্ত্রী সমিরা খাতুন। তিনি স্বামীকে ফেরত চেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার ছেলে ‘বাবা কই, বাবা কবে আসবে’ এমন মিনতি করে সারাক্ষণ কান্না করে। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী সংসার চালাতে ঋণ করে রেখেছে। মাছ ধরার পর তা বিক্রি করে সেই ঋণের টাকার কিস্তি পরিশোধ করি। কিন্তু পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় বিএসএফ তাকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতে। এখন আমি অসহায় অবস্থায় দিন পার করছি। আমি দ্রুত আমার স্বামীর মুক্তি চাই।’

বিএসএফের হাতে আটক শফিকুল ইসলামের মা আরজেমা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে মাছ মারতে গেছিল পদ্মায়। বাংলাদেশের ভেতর থেকেই তাকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ। বিএসএফ ধরে নিয়ে গিয়ে আমার ছেলেকে নির্যাতন করেছে। তাকে মারধর করা হয়েছে। বিনাদোষে কেন আমার ছেলেকে বিএসএফ ধরে নিয়ে গেল তার বিচার চাই।’ বিএসএফের হাতে অপহরণের শিকার রাজন আলীর মা ফাইমা বেগমও মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

মানববন্ধন চলাকালে পাঁচ জেলের পরিবারসহ মৎস্যজীবী সমিতির নেতারা বলেন, গত ৩১ জানুয়ারি পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় গহমাবোনা সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে বিএসএফ পাঁচ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ নিয়ে বিজিবি’র সঙ্গে পতাকা বৈঠক হলেও অপহৃতদের ফেরত দেয়নি বিএসএফ। উল্টো ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে তাদেরকে ভারতীয় পুলিশে সোপর্দ করেছে তারা। বাংলাদেশী পাঁচ জেলেকে ফেরত আনতে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে মানববন্ধনে দাবি করা হয়। মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে বিএসএফের হাতে অপহৃত জেলেদের মুক্তির দাবি জানানো হয়।

মৎসজীবী সমিতির নেতা আবু তাহের বলেন, বিএসএফ পদ্মা নদীর বাংলাদেরশের সীমানায় যখন তখন ঢুকে গিয়ে আমাদের জেলেদের হেনস্তা করছে। ধরে নিয়ে যাচ্ছে। একারণে আতঙ্কে জেলেরা পদ্মায় নামতে পারছে না। মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই।

 260 total views,  1 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top