করোনাভাইরাসের খবর ফাঁসকারী সেই চীনা ডাক্তার মারা গেছেন

মারাত্মক করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে যে চীনা চিকিৎসক সর্বপ্রথম সতর্ক বার্তা দিয়েছিলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গিয়েছেন।

তিনি যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, সেখান থেকে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

লি ওয়েনলিয়াং নামে ওই চিকিৎসক উহান সেন্ট্রাল হাসপাতালে কাজ করার সময় ভাইরাসে আক্রান্ত হন।

তিনি ৩০শে ডিসেম্বর সহকর্মীদের কাছে একটি সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তবে পুলিশ তাকে “মিথ্যা মন্তব্য করা” বন্ধ করতে বলে।

তার মৃত্যুর বিষয়ে পরস্পরবিরোধী সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু পিপলস ডেইলি এখন জানিয়েছে যে শুক্রবার তিনটার দিকে তিনি মারা যান।

জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চীনের মূল ভূখণ্ডে ভাইরাসটির প্রকোপে এখন পর্যন্ত ৬৩৬জনের মৃত্যু হয়েছে। ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে মোট ৩১ হাজার ১৬১জন।

বৃহস্পতিবারই ৭৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হলে শ্বাসযন্ত্রে তীব্র সংক্রমণ দেখা দেয় এবং এর লক্ষণগুলো সাধারণত জ্বর দিয়ে শুরু হয় এবং এর পরে হয় শুকনো কাশি।

সংক্রামিত বেশিরভাগ মানুষই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন – ঠিক যেমন তারা ফ্লু বা জ্বর থেকে সেরে ওঠেন।

কীভাবে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল?

গ্লোবাল টাইমস, পিপলস ডেইলি এবং অন্যান্য চীনা গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার ডা. লি-এর মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল।

৩৪ বছর বয়সী ডা. লিকে, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ প্রাথমিকভাবে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল এবং এই খবরটি চীনা সামাজিক মাধ্যম ওয়েইবোতে ঝড় তুলে দেয়। ওয়েইবো অনেকটা টুইটারের মতো। এই খবরে সেখানে প্রচুর মানুষ তাদের প্রতিক্রিয়া জানায়।

পিপলস ডেইলি একটি টুইট করে করে জানিয়েছে যে ডা. লি এর মৃত্যু “জাতীয় শোক” ছড়িয়ে দিয়েছে।

তবে গ্লোবাল টাইমস তখনও বলেছিল যে ড. লি’কে ‘ইসিএমও (এক্সট্রা-কর্পোরাল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন)’ নামে পরিচিত একটি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

যার মাধ্যমে একজন রোগীর হার্টকে পাম্প করে সচল রাখা হয় এবং রক্তে অক্সিজেনের পরিবহন বজায় রাখা হয় যেন তা ফুসফুসের মধ্যে চলে না যায়।

গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছিল যে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

 289 total views,  1 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top