রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে যুক্তরাজ্য

রোহিঙ্গারা যেন রাখাইনে নিজ ভূখন্ডে ফিরতে পারেন সেজন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব। বর্তমানে ইউরোপে অবস্থানরত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে গত সোমবার দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় এই আশ্বাস দেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ছাড়া তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে যুক্তরাজ্যের প্রশংসার কথা জানিয়েছেন। ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দুই নেতা অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে কোপ-২৬ পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ যে পদক্ষেপ নিয়েছে তার প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন ডমিনিক রাব। এ ছাড়া কয়লা থেকে বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ¦ালানিতে রূপান্তরে ব্রিটেনের সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার লক্ষ্যে আফগানিস্তান সম্পর্কে সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য আলোচনার উদ্বোধনীকে স্বাগত জানান ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য জোরদার করার আরও সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বাংলাদেশকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর জন্য অভিনন্দন ও বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তিতে স্বাগত জানান।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা প্রত্যাশা: জলবায়ু পরিবর্ত নের কারণে বাংলাদেশের যে ক্ষতি হচ্ছে সেটি মোকবিলার জন্য অর্থায়ন, জলবায়ু অভিবাসীদের পুনর্বাসন ও সবুজ প্রযুক্তি হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। গত সোমবার নেদারল্যান্ডে গ্লোবাল সেন্টার অন এডাপটেশনের (জিসিএ) বৈঠকে অংশগ্রহণের পাশাপাশি আবদুল মোমেন একাধিক ডাচ মন্ত্রী ও আইএমএফ এর প্রধান ক্রিসটালিনা জর্জিভার সঙ্গে বৈঠকে এই অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যেসব দেশ অধিক দূষণ করছে তাদের কাছ থেকে বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উপর জিসিএ বৈঠকে জোর দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জলবায়ুর কারণে যারা অভিবাসী হচ্ছে তাদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব যারা বেশি কার্বন নিঃসরন করছে। এছাড়া, প্রতি বছরে ১০ হাজার কোটি ডলার জলবায়ু তহবিল গঠনের উপর জোর দেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নেদারল্যান্ডের অবকাঠামো ও পানি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী বারবারা ভিসেরের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রকল্পে সহায়তা চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশে বাঁধ ও বেড়িবাধ নির্মাণেও ডাচ পরামর্শ ও সহায়তা চান। ডাচ বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা মন্ত্রী টম ডি ব্রুজিনের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধি অব্যহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন আবদুল মোমেন। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে গেলেও শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা অব্যহত রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী। আইএমএফ এর প্রধান ক্রিসটালিনা জর্জিভার সঙ্গে বৈঠকে জলবায়ু তহবিল নিয়ে আলোচনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ-সংক্রান্ত কয়েকটি প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য আইএমএফকে আহ্বান জানান তিনি।

 32 total views,  1 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top