সংবাদ শিরোনাম:

তালাকের কোন শর্তই মানেননি নাসির-তামিমা: পিবিআই প্রধান

অনলাইন ডেস্ক: তালাক কার্যকর হতে যেসব প্রক্রিয়া মানা দরকার ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও বিমানবালা তামিমা সুলতানা তাম্মী তার কোনোটিই মানেননি বলে জানিয়েছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার। তিনি বলেছেন, ‘তালাক হতে গেলে যে প্রসেস মানা দরকার তার কোনোটিই মানেননি নাসির হোসেন ও তামিমা। তাই তাদের বিয়ে বৈধ নয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বনজ কুমার বলেন, ‘এক সময় রাকিব হাসানের স্ত্রী ছিলেন তামিমা। কিন্ত নাসির হোসেন তামিমাকে আবারও বিয়ে করেছেন সুতরাং আগের বিয়ের ডিভোর্স হয়েছে কি না তা আইনগতভাবে যাচাই-বাছাই করার কথা। তামিমা আমাদের কাছে দাবি করেছেন তিনি রাকিবকে ডিভোর্স দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন আসতে পারে রাকিব কেন মামলা করলেন? তালাকপ্রাপ্ত হয়েছেন কিন্তু তালাক হয়নি এই বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে আমরা দেখলাম তালাক হতে গেলে তিনটি শর্ত লাগে। একটি হলো সংশ্লিষ্ট কাজীকে উপস্থাপন করা, দ্বিতীয়ত যিনি তালাকপ্রাপ্ত হবেন অথবা যাকে তালাক দেয়া হবে তার বাসায় একটি নোটিশ পাঠানো এবং তৃতীয়ত যিনি তালাকপ্রাপ্ত হবেন তার স্থায়ী ঠিকানার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে একটি নোটিশ পাঠাতে হবে।’

পিবিআই প্রধান বলেন, ‘দ্বিতীয়টিতে দাবি করা হয়েছে রাকিব হাসানের বাসায় পাঠানো হয়েছে। কিন্তু যে তারিখে চিঠিটি রাবিক হাসানের বাসায় প্রসেস করা হয়েছে সেই সময় ওই বাসায় রাকিব তখন থাকতেন না। অর্থাৎ চিঠি প্রসেসের ছয় মাস পূর্বে রাকিব অন্য বাসায় ছিলেন। যেই তারিখে চিঠিটি দেখানো হয়েছে সেই সময় ঠিকানাটি ভুল ছিল। অর্থাৎ সেই ঠিকানায় রাকিব থাকতেন না ওই বাসায়। এই প্রসেসটি মানা হয়নি এবং তারা সঠিক কথা বলছেন না।’

বনজ কুমার আরও বলেন, নাসির ও তামিমা ডাকযোগে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে যে চিঠিটি দেখিয়েছেন তা সঠিক দেখাননি। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমাদেরকে বলেছেন তিনি এমন কোনও চিঠি পাননি। অর্থাৎ তালাক হতে গেলে যেসব প্রসেস মানা দরকার তার কোনোটিই মানা হয়নি। সুতরাং এটি অবৈধ।

পিবিআই প্রধান আরও বলেন, তামিমা যে পাসপোর্ট ব্যবহার করেন তাতে তালাক দেখানো হয়েছে ২০১৬ সালে। কিন্তু ২০১৮ সালে পাসপোর্ট নবায়নের সময় স্বামীর নাম রাকিব হাসান দেওয়া হয়। আমরা বলতে পারি বিয়ে চলমান অবস্থায় তালাক দেখানো হয়েছে। নাসিরের উচিত ছিল তামিমা যে তালাকনামাটি দেখিয়েছেন তা সঠিক কি না সেটি যাচাই করা। কারণ তথ্য বলছে নাসিরের উচিত ছিল এটি যাচাই করা। আমাদের কাছে মনে হয়েছে তামিমার তালাকনামাটি জালিয়াতির মাধ্যমে হয়েছে এবং এই জালিয়াতিতে তামিমার মা সুমি আক্তার সহযোগিতা করেছেন।

নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে পিবিআই এখন কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না জানতে চাইলে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, এটি আদালত সিদ্ধান্ত নিবেন।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানার বিয়ে হয়। এরপর নতুন করে বিতর্ক ওঠে এই ক্রিকেটারকে ঘিরে। তামিমা সুলতানা তার আগের স্বামীকে তালাক না দিয়ে নাসিরকে বিয়ে করেছেন বলে তামিমার স্বামী রাকিব অভিযোগ করেন। আইনবহির্ভূতভাবে বিয়ে করার অভিযোগে নাসির হোসেন ও তামিমার বিরুদ্ধে সেদিনই রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রাকিব হাসান। জিডিতে তামিমার সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন রাকিব।

জিডিতে রাকিব দাবি করেছেন, তামিমার সঙ্গে তার (রাকিবের) ১১ বছরের সংসার। তাদের আট বছরের একটি মেয়েও আছে। কিন্তু সব ফেলে নাসিরকে বিয়ে করায় থানায় অভিযোগ করেন তিনি।

১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় নাসির ও তামিমার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। নাসিরের স্ত্রী পেশায় কেবিন ক্রু। কাজ করেন বিদেশি একটি এয়ারলাইনসে। বিয়ের অনুষ্ঠানে পরিবারের লোকজন এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন, জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে তালাক যথাযথভাবে হয়নি জেনেও তামিমা সুলতানাকে বিয়ে করার অভিযোগে করা মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসেন, তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা ও তামিমার মা সুমি আক্তারকে আদালতে হাজির হতে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ৩১ অক্টোবর আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারির আদেশ দেন।

 48 total views,  3 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top