২২ বছর পর র‌্যাবের জালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি

অনলাইন ডেস্ক: ধারের দুই হাজার টাকা না পেয়ে শিশু সন্তানের সামনে মাকে হত্যার ২২ বছর পর অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তার নাম আদম খান রফিক।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকার অদূরে আশুলিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এলিট ফোর্সটি। হত্যাকাণ্ডের ওই ঘটনায় অভিযুক্ত আদম খানের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছিল হবিগঞ্জের একটি আদালত।

১৯৯৯ সালের ৩১ মে আর্থিক লেনদেনের জেরে নুরচান বেগমকে হত্যা করে আদম খান। হত্যার পর সে পালিয়ে আত্মগোপনে যায়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে মানববন্ধন করে স্থানীয়রা। এসময় এলাকাবাসী চাঁদা তুলে মামলা পরিচালনা করে আসছিল। নিজের পরিচয় আত্মগোপন করতে আদম খান জাতীয় পরিচয়পত্র পরিবর্তন করে এবং আশুলিয়া এলাকায় অবস্থান করে। সেখানে কখনও রাজমিস্ত্রি আবার কখনও ফল বিক্রি করত। র‌্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৯ এর একটি দল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে শিশু সন্তানের সামনে বিধবা মা নুরচান বেগম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ বছরের পলাতক আসামি আদম খান রফিককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ১৯৯৯ সালে মাত্র দুই হাজার টাকার জন্য তিন বছরের শিশু সন্তান তাজউদ্দিনের সামনে পার্শ্ববর্তী আছমত আলীর ঘরে অমানবিকভাবে ছুরি দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে আদম খান। এতে নুরচান বেগমের মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ৭/৮ মাস আগে ভিকটিমের স্বামীর মৃত্যু হয়।

মাকে হত্যার ঘটনায় চুনারুঘাট থানায় মামলা করেন নিহতের ছেলে শফিক। সেসময় এলাকাবাসী হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন।

র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, বিধবার মৃত্যুতে তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে পিতামাতা হারা হয়ে যায়। আর্থিক সংকটের কারণে ভিকটিমের নিকটাত্মীয় (ফুপা) এবং এলাকাবাসীর আর্থিক সহায়তায় মামলাটি পরিচালনা করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ২০০২ সালে আদালত আসামি আদম খানকে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদম খান রফিক প্রায় ২২ বছর পলাতক ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাব দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় আশুলিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যে কারণে হত্যা

র‌্যাব জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের একবছর আগে অভিযুক্ত আদম খানের কাছ থেকে নিহতের ছেলে শফিক দুই হাজার টাকা ধার নেন। এর পাঁচ মাস পর শফিকের বাবা আব্দুর রহমানের মৃত্যু হয়। এসময় পরিবারটি অভাব অনটনে পরে। ১৯৯৯ সালের ৩১ মে টাকা চাইতে যায় আদম খান। ধারের টাকা না দেওয়ায় পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অপমান করে। এসময় ভুক্তভোগী তার তিন বছরের ছেলেকে কোলের নিয়ে ঘটনার বিষয়টি জানাতে প্রতিবেশি আছমত উল্লাহর বাড়িতে যান। সেখানেই তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে ধারাল ছুরি দিয়ে বুকের বাম পাশে আঘাত করা হয়। এতে নুরচান বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান।

যেভাবে পলাতক ছিল আদম

হত্যাকাণ্ডের পর তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাম থেকে পালিয়ে সিলেট শহরে সপ্তাহখানিক অবস্থান করেন অভিযুক্ত। এরপর নিজের গ্রেপ্তার এড়াতে ঢাকার আশুলিয়ায় চলে আসেন।

২০১২ সালের মার্চ মাসে আদম খান মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভূয়া জন্ম সনদপত্র তৈরি করেন। ভূয়া সনদপত্রের মাধ্যমে একটি এনআইডি’র জন্য আবেদন করে। যেখানে স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া হয় হবিগঞ্জের মাদকপুরে। চেহারা পরিবর্তন করার জন্য ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং তার আসল নাম আদম খান এর পরিবর্তে নিজেকে রফিক নামেই আশুলিয়ায় পরিচিত করে। পরবর্তীতে জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে একটি এনআইডি এবং স্মার্ট এনআইডি কার্ড তৈরি করে। এরপর ধীরে ধীরে সে আশুলিয়ায় স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলে এবং ছদ্মবেশে রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করে। গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ২২ বছর নিজের গ্রামের বাড়িতে যায়নি।

 50 total views,  2 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top