মৃতপ্রায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট, তিব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ

অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নিবন্ধিত দলগুলো। যদিও গত প্রায় দুই বছর ধরে ২০ দলীয় জোটের দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি নেই।

এসময়ে জোটের কোন বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়নি। একারণে ২০ দলকে নিস্ক্রিয় বা মৃত বলে তালিকাভুক্ত করতে চাচ্ছেন জোটের শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন, এই দুই বছর ২০ দলীয় জোটকে বিএনপি কোন মূল্যায়ন করেনি। বরং বারবার তারা জোটকে অবমূল্যায়ন করেছে।

২০ দলীয় জোটের কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে জোটের বৈঠক না ডাকা নিয়ে বিএনপি ও ২০ দলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছিলো। ওই সময় নেতাদের ক্ষোভের কারণে বিএনপি সিদ্ধান্ত নেয় যে, প্রতি মাসেই ২০ দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু কয়েক মাস বৈঠক হলেও পরে আবারও প্রায় দুই বছর ধরে জোটের বৈঠক ডাকা হয়নি। এনিয়ে জোট নেতারা বিএনপির ওপর ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

এ প্রসঙ্গে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ২০ দলীয় জোটের এক শীর্ষ নেতা বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। কারণ গত প্রায় দুই বছর ধরে জোটের কোণো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। আর জামায়াত থাকার কারণে বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে ২০ দলীয় জোটকে অন্তর্ভুক্তও করা হয় না।

জানতে চাইলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক দল কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, জোটের কোনো কার্যক্রম নেই। আর ২০ দলীয় জোটে আছে বললেও সত্য। আবার নাই বললেও সত্য।

নির্বাচন কমিশন গঠনে কল্যাণ পার্টি কি সংলাপে যাবে কিনা জানতে চাইলে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, সংলাপের আমন্ত্রণের চিঠি এখনো আমরা পায়নি। চিঠি পাওয়ার পরে আলোচনা করে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানাবো।

২০ দলীয় জোটের আরেক শরীক দল বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, বর্তমানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কোণো কর্মসূচি নেই। তবে জোটের শীর্ষ নেতাদেরকে যার যার দলকে সুসংগঠিত করতে বিএনপি নির্দেশ দিয়েছে। আমরা এখন সেই কাজ করছি।

ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মণি বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে আছে। কিন্তু এই জোটের কার্যক্রম নেই। আর নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে ২০ দলীয় জোটের নিবন্ধিত দলগুলো না যাওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে গত ১ অক্টেবর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয় জোটের অন্যতম রাজনৈতিক দল খেলাফত মজলিস।

জোট ছাড়ার বিষয়ে দলটি বলেছে, জোট স্থায়ী বিষয় নয়। দীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ খেলাফত মজলিস ২০ দলীয় জোটে আছে। কিন্তু ২০১৮ সালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মধ্য দিয়ে ২০ দলীয় জোটকে কার্যত রাজনৈতিকভাবে অকার্যকর করা হয়। তাই আদর্শিক, সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় খেলাফত মজলিস একটি আদর্শিক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে সক্রিয় স্বতন্ত্র এবং বৈশিষ্ট্য নিয়ে ময়দানে ভূমিকা রাখবে। এখন থেকে ২০ দলীয় জোটসহ সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করছে খেলাফত মজলিস।

এর আগে গত ১৪ জুলাই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে জোটের অন্যতম আরেক শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। এবিষয়ে দলটি বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের জন্য ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করাই কল্যাণকর বলে মনে করছি।

তবে ২০ দল ছাড়ার বিষয়ে জোটের প্রধান দল বিএনপির অভিযোগ, সরকার ২০ দলীয় জোটের দলগুলোকে চাপ ও প্রলোভন দিয়ে জোট থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছে।

এবিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জোট ছাড়ার সবচেয়ে বড় কারণ, সরকারের পক্ষ থেকে দলগুলোর প্রতি চাপ। আর দলগুলোর মধ্যেও বিরোধ রয়েছে। কারণ একটি অংশ জোট থেকে চলে গেলেও অন্য অংশটি বিএনপির সঙ্গে রয়েছে।

 43 total views,  1 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top