অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলার রায় ৩১ জানুয়ারি

অনলাইন ডেস্ক: সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ আসামির সাজা হবে কিনা, তা জানা যাবে ৩১ জানুয়ারি। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইসমাঈল সেদিন এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

বুধবার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারক রায়ের এই তারিখ ঠিক করে দেন বলে এ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ফরিদুল আলম জানান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলম জানান, বুধবার ওসি প্রদীপের পক্ষে অসমাপ্ত যুক্তি উপস্থাপন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় গত ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনে এ মামলার সাক্ষ্য দেন দুজন। তারা হলেন মামলার বাদী ও সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস এবং ২ নম্বর সাক্ষী ঘটনার সময় সিনহার সঙ্গে গাড়িতে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাত।

দ্বিতীয় দফার ৪ দিনে সাক্ষ্য নেওয়া হয় ৪ জনের, তৃতীয় দফার ৩ দিনে ৮ জনের, চতুর্থ দফার ২ দিনে ৬ জন, পঞ্চম দফার ৩ দিনে ১৫ জন, ষষ্ট দফার ৩ দিনে ২৪ জন, সপ্তম দফার ৩ দিনে ৫ জন এবং অষ্টম দফার ৩ দিনে ১ জনের (তদন্তকারী কর্মকর্তা) সাক্ষ্য নেওয়া হয়। নবম দফায় ১৫ জন আসামির সাফাই সাক্ষী গ্রহণ করা হয়েছে।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে।

ঘটনার পাঁচ দিন পর অর্থাৎ ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। চারটি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় র‌্যাব।

২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও র‌্যাব-১৫ কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাম।

গত মঙ্গলবার মেজর সিনহার হত্যা মামলার তৃতীয় দিনের সর্বশেষ যুক্তি উপস্থাপন করেছেন আইনজীবীরা। প্রথমে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন মামলার ১ নম্বর আসামি ও টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক লিয়াকত আলীর নিযুক্ত আইনজীবী চন্দন শর্মা।

চট্টগ্রাম আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন শর্মা দাবি করেন, সিনহা হত্যার সঙ্গে লিয়াকত আলী জড়িত নন, তাকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার শুনানিতে ওসি প্রদীপের আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত দাবি করেছেন, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যায় প্রদীপ কুমার দাশ জড়িত নন।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার যুক্তি উপস্থাপনের সময় তিনি দাবি করেন, প্রদীপকে মামলায় ফাঁসিয়েছেন ইয়াবা ব্যবসায়ীরা।

 31 total views,  1 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top