বঙ্গবন্ধু সিনেমায় অভিনয় আমার সেরা অর্জন: শুভ

অনলাইন ডেস্ক: আরিফিন শুভ। অভিনেতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক ‘বঙ্গবন্ধু’ সিনেমায় বঙ্গবন্ধুর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। এই সিনেমা প্রসঙ্গে তার সঙ্গে কথা বলেছেন অনিন্দ্য মামুন

বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে মুখ্য চরিত্রে কাজ এরই মধ্যে শেষ করেছেন। জানতে চাই, প্রথম যখন জানতে পারলেন চরিত্রটি আপনি করছেন- কেমন লেগেছিল?

— এটা আমার পক্ষে বুঝিয়ে বলা সম্ভব নয়। হয়তো এমন পরিস্থিতির অনুভূতির কথা কেউ বলতে পারবেন না। এটা অনুভবের বিষয়। তবে একটা বিষয় না বললেই নয়, খবরটি পাওয়ার পর কিছু একটা ঘটেছে, বুঝতে পারছিলাম; যা এখন বলতে পারব না। তবে খবরটি শোনার পর চোখ বেয়ে নেমেছিল আনন্দ অশ্রু। একজন মানুষ হিসেবে, একজন বাঙালি হিসেবে এবং একজন শিল্পী হিসেবে- এই তিন জায়গা থেকে এই অনুভূতি প্রকাশের কোনো শব্দ খুঁজে পাচ্ছি না।

অডিশন থেকে নির্বাচিত হওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে জানতে চাই…

— এই কাজটি করার জন্য ২০২০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি আমি চূড়ান্ত হয়েছি। তারও আগের তিন মাসে দেশে এবং ভারতে মিলিয়ে পাঁচবার আমাকে নানাভাবে অডিশন দিতে হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে আমাকে কনফারমেশন দেওয়া হয়। সেই বছরের মার্চে সিনেমার দৃশ্যধারণ হওয়ার কথা থাকলেও করোনার জন্য আটকে যায়। পরের খবর তো সবাই জানেন।

পর্দায় বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠা সহজ নয়। আপনার প্রস্তুতি কেমন ছিল?

— যখন আমাকে জানানো হলো আমি সিনেমায় বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করব। তারপরই শুরু হয় আমার প্রস্তুতি পর্ব। সেই সময় থেকেই বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন আয়োজনের ভিডিও ফুটেজ দেখা, বই পড়া। যারা তাকে দেখেছেন, তাদের কাছে গিয়ে ১৯২০ থেকে শুরু করে ১৯৭৫ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ও ব্যক্তি জীবন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছি। কখনও সরাসরি কথা, অভিজ্ঞতা শুনেছি। বলা যেতে পারে চরিত্রটি নিয়ে একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। জানি না কতটা কী করতে পেরেছি কিন্তু আমাদের টিমের কারও মধ্যেই প্রস্তুতির কোনো কমতি ছিল না।

বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপনের জন্য শারীরিক কোনো পরিবর্তন আনতে হয়েছে কী?

— অবশ্যই করতে হয়েছে। চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য আমাকে কখনও ওজন বাড়াতে হয়েছে, আবার কখনও কমাতেও হয়েছে। যেমন এই সিনেমায় আমি বঙ্গবন্ধুর ২৬-২৭ বছরের সময়টাতেও অভিনয় করেছি। আবার শেষ বয়সেরও বঙ্গবন্ধু হয়েছি, যার কারণে নিজের শারীরিকভাবেও বেশ পরিবর্তন আনতে হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে শুরুতে কিছুটা স্নায়ুচাপে ছিলাম। কাজ শুরুর পর ধীরে ধীরে তা কেটে গেছে। তবে এটা বলতে পারি, বঙ্গবন্ধু চরিত্রে অভিনয় আমার অভিনয় জীবনের সেরা অর্জন।

পরিচালক শ্যাম বেনেগালের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

প্রখ্যাত নির্মাতা শ্যাম বেনেগালকে সত্যজিৎ রায়ের পরই স্থান দেওয়া হয়। এ মানুষটি আমাকে নির্দেশনা দেবেন আগে কখনও কল্পনাও করিনি। তার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তই আমার কাছে ছিল বিশেষ। আমাদের দেশে যেখানে সিনেমার কাজ হয়, তার চেয়ে ভিন্নভাবে মুম্বাইতে কাজ হয়। দারুণ একটা ইউনিটের সঙ্গে কাজ করেছি।

 131 total views,  3 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top