ছেলেরা ‘ইয়াবা ব্যবসায়ী’: অত্যাচারে ঘরছাড়া বৃদ্ধ বাবা

স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের সুখের জন্য জীবনের মূল্যবান সময়টুকু প্রবাসে পার করেছেন। প্রবাসে যৌবন কাটিয়ে বৃদ্ধ হয়ে শরীর আর না চলায় দেশে ফিরে এসেছেন গফুর আলম (৫৫)।

স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা এখন গ্রাম ছেড়ে শহরে জীবনযাপন করে সুখীও। কিন্তু বয়োবৃদ্ধ গফুর দীর্ঘ ৩০ বছর পর দেশে এসেও ইয়াবা ব্যবসায়ী অবাধ্য দুই সন্তানের অত্যাচারে জীবন হুমকি নিয়ে ফেরারি জীবন কাটাচ্ছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে কথা হয় প্রবাসফেরত কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী পণ্ডিত পাড়ার গফুর আলমের সঙ্গে।

প্রতিবেশীদের সামনে আহাজারি করে তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে কিশোর বয়সে সৌদি আরব যাই। ১৯৮৪ সালে এসে পার্শ্ববর্তী গৌজঘোনা এলাকার সুলতানা রাজিয়াকে বিয়ে করে কয়েক মাসের মাথায় ফের সৌদিতে পাড়ি জমাই। প্রায় প্রতি বছর নিয়মিত দেশে যাতায়াত করি। দুই ছেলে ও এক মেয়ের জন্ম হয়। ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ ভেবে ও সংসারের অভাব ঘোচাতে টানা দীর্ঘ সময় প্রবাসী হয়ে ছেলেমেয়েদের মোটামুটি লেখাপড়া করিয়ে শিক্ষিত করে তুলেছি।

তিনি জানান, দেশে ফিরে আসব তাই বিদেশের যাবতীয় আয় রোজগার স্ত্রী ও ছেলেদের কাছে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু স্ত্রী ও ছেলেরা সেই টাকা দিয়ে ইয়াবা ব্যবসা করে। কয়েক মাস আগে ঢাকা বিমানবন্দরে ছেলে মুবিনসহ ইয়াবা নিয়ে যাওয়ার সময় তার ইয়াবা বাহক গৌজঘোনার জসিম উদ্দীন ১০ হাজার ইয়াবাসহ আটক হলেও মুবিন কৌশলে পালিয়ে যায়।

আটক জসিমের স্বীকারোক্তি মতে মবিন ওই মামলায় পলাতক আসামি হলেও তার সঙ্গে উখিয়া থানা-পুলিশের সুসম্পর্ক থাকায় তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে তার বাবা ও এলাকাবাসী জানান।

স্থানীয় লোকজনের সামনে গফুর আলম বলেন, আড়াই বছর আগে দেশে এসে দেখি স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা কেউ ঘরে নেই। আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে জেনেছি আমার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা ৫/৭ বছর ধরে কক্সবাজারে বাসা নিয়ে থাকে। ছেলেরা এলাকায় থেকে ইয়াবা ব্যবসা করে। আমি আসার পর স্ত্রী ও ছেলেরা আমার সঙ্গে একটি দিনও থাকেনি। উপরন্তু তারা আমাকে সহায় সম্পদ তাদের নামে লিখে দিতে চাপ দিতে থাকে। কিন্তু তা না দেওয়ায় ছেলেরা সাক্ষী হয়ে স্ত্রী আমার বিরুদ্ধে আদালতে যৌতুক মামলা করে।

তিনি বলেন, ছেলে নুরুল আবসার (৩৩) ও কাইছার মুবিন (৩০) গত ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে থাইংখালী বাজারে লোকজনের সামনে প্রকাশ্যে মারধর করে। ইতিপূর্বেও স্ত্রীর লেলিয়ে দেওয়া ছেলেরা আরও চার বার মারধর করে।

গফুর আলম জানান, এ ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে সালিস দরবার হলেও তারা কোনো কিছু না মেনে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। সন্ত্রাসী ছেলেরা তাকে তার পরিশ্রমে গড়া ঘরেও থাকতে দিচ্ছে না। প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দিচ্ছে সন্ত্রাসী, ইয়াবা ব্যবসায়ী ছেলেরা ও স্ত্রী।

এ ব্যাপারে গফুর আলম উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানান।

গফুরের ভাই ফরিদ আলম বলেন, বৃদ্ধ ভাইকে নিয়ে সর্বদা উদ্বেগে থাকতে হয়। কারণ ইয়াবা কারবারি সন্ত্রাসী ছেলেরা কখন তাকে হত্যা করে এ ভয়ে।

উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, গফুর আলম দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে এসেও সন্ত্রাসী ছেলেরা তাকে শারীরিক নির্যাতন করে আসছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য ইউএনও বরাবরে সুপারিশ করা হয়েছে।

 263 total views,  1 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top