মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় ‘পীরগঞ্জ নাইট’

ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল ৫টা বাজতে আরও ১০ মিনিট বাকি। এরইমধ্যে কেউ জোড়া জোড়া হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে,কেউ বন্ধুদের নিয়ে,আবার অনেককে দেখা গেল একাই আসতে। সবাই প্রবেশ করছেন ঢাকার মানিকমিয়া এভিনিউয়ে সেচ ভবন মিলনায়তনে। উদ্দেশ্য ‘পীরগঞ্জ নাইট’।
ঢাকায় বসবাসরত ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার অধিবাসীদের সংগঠন ‘পীরগঞ্জবাসী কল্যাণ সমিতি’ এই ‘পীরগঞ্জ নাইট’ এর আয়োজক। শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত নাচ-গান,অভিনয়,র‌্যাফেল ড্র আর ব্যান্ড শো’র মধ্য দিয়ে ‘পীরগঞ্জ নাইট-২০২০’ অনুষ্ঠিত হয়।
রাশনা শারমীন নিপুণের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন পীরগঞ্জবাসী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোহেল রানা। এরপর পীরগঞ্জের উপর নির্মিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ল্যাম্পপোস্ট’ এর একটি ডকুমেন্টারি দেখানো হয়। গত কয়েকবছরে পীরগঞ্জবাসী কল্যাণ সমিতির নানা কার্যক্রম ছবির মাধ্যমে একঝলকে বড় পর্দায় তুলে ধরা হয়।
ঘড়ির কাঁটায় তখন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। পুরো মিলনায়তন তখন ভরে গেছে পীরগঞ্জের মানুষের উপস্থিতিতে। মঞ্চে তখন উঠলেন পীরগঞ্জবাসী কল্যাণ সমিতির সদস্যরা। শুরু করলেন সংগঠনটির সঙ্গীত-‘আমরা পীরগঞ্জবাসী ঢাকায় থাকি/সবাই মিলে একতা গড়ি/এসো সুখে-দুখে/থাকি আমরা পাশাপাশি’। গানটি শেষ হতেই মঞ্চে উঠে পীরগঞ্জের কয়েকজন ক্ষুদে শিল্পী একে একে নৃত্য পরিবেশন করেন। নৃত্য শেষ হতেই ‘ঘাতক মোবাইল’ শিরোনামে একটি ছোট্ট নাটিকা পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠান চলাকালে বাইরে চলছিল গুড়গুড়িয়া,নুনাস পিঠা, চটপটি, ফুচকা, গরম পিয়াজু,জিলাপি, চা-কফি খাওয়ার পর্ব। কেউ বন্ধুদের নিয়ে,কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জমিয়ে গল্প করার ফাঁকে মুখরোচক এইসব খাবার গিলছিলেন।
হঠাৎ মঞ্চ থেকে উপস্থাপিকা পীরগঞ্জের বৌমাদের মঞ্চে আসতে বলেন। সেই সুযোগ পীরগঞ্জ গ্রহণ করে অনেকেই মঞ্চে গিয়ে উঠেন। এরপর উপস্থাপিকা তাদের কাছে পীরগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায় কয়েক লাইন কথা বলতে বলেন। কেউ কেউ আঞ্চলিক ভাষাতে কথা বলেন,আবার অনেকে কথা বলতে পারেন নি। এভাবেই মজার মজার পর্বে অনুষ্ঠান এগোতে থাকে।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের নানা দিক তুলে ধরে কথা বলেন পীরগঞ্জবাসী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নোমান কবির।
‘বাটপার’ শিরোনমে একটি নাটকও পরিবেশন করা হয়। এর মাঝে মূল আকর্ষণ ছিল র‌্যাফেল ড্র। যদি লাইগ্যা যায়….অনেকেই একাধিক লটারী কিনেছিলেন। মোট ২৫টি পুরস্কার দেওয়ার হয় এতে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মঞ্চে উঠে ‘বাবু এন্ড ফ্রেন্ডস’ ব্যান্ড দল। ব্যান্ড সঙ্গীতের সঙ্গে উপস্থিত পীরগঞ্জবাসীর তরুণ থেকে বুঁড়োরা একসঙ্গে মঞ্চের পাশে নাচ শুরু করে। সবশেষে পীরগঞ্জের সন্তান কণ্ঠশিল্পীর জাহিনের কণ্ঠে ‘ঝাকানাকা ঝাকানাকা / ঝাকানাকা দেহ দোলা না /ঝাকানাকা ঝাকানাকা ঝাকানাকা দেহ দোলা না/ মীরাবাঈ হেই…’ এই গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে ইতি ঘটে।
পরে র‌্যাফেল ড্র’তে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এমপি জাহিদুর রহমান জাহিদ।

 309 total views,  2 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top