সংবাদ শিরোনাম:

ঠাকুরগাঁও থেকে চীনে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের পরিবারে আতঙ্ক

বারান্দার দেয়ালে মাথা, চোখে জল। মুখে শুধু একটাই কথা, ‘আল্লাহ তুই মোর ছুয়াটাক সুস্থ রাখিস, রহমত করিস। মোর ছুয়াটা যাতে সুস্থ থাকে।’

মঙ্গলবার সকালে এসব বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন চীনে পড়তে যাওয়া মোকছেদুল মমিনের মা মনোয়ারা বেগম। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোলাখুড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

চীনে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে যাওয়া প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীদের পথে যেন বাধা হয়ে দাঁড়ালো করোনাভাইরাস। ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী রয়েছেন চীনে। দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান চীনে অবস্থানরত শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের। দিনের পর দিন দুশ্চিন্তা ও আতঙ্ক বেড়েই চলছে পরিবারের স্বজনদের। সেই সঙ্গে চিন্তায় রয়েছেন এলাকাবাসীও।

চীনে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৬ জন এবং আক্রান্তের সংখ্যা বিশ হাজারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

ছেলে সৈয়দ আশিকুজ্জামানের জন্য দুশ্চিন্তায় জেলা সদরের সৈয়দ আব্দুল করিম। ৫ বছর আগে পড়াশোনার জন্য চীনে সন্তানকে পাঠান তিনি। খুব ভালোই যাচ্ছিলো তার ছেলেসহ পরিবারের সকলের দিনকাল। চীনের এই ভাইরাসের কথা শোনার পরই যেন সবকিছুই এলোমেলো হয়ে গেছে। যদিও সন্তান বলেছেন, তিনি সুস্থ, এরপরও আমরা আতঙ্কে অভিভাবকরা।

শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বাংলাদেশ সরকার চীনে অবস্থানরত কিছু বাংলাদেশি যাতে দেশে আসতে পারে সেটার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে আমাদের ঠাকুরগাঁও জেলার বেশ কিছু ছাত্র ও ব্যবসায়ী এখনো চীনে রয়ে গেছে। তাদের মধ্যে একজন একটি ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশে আশার আকুতি জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা করছি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানোর।

অপরদিকে যদিও ঠাকুরগাঁও জেলায় এই ভাইরাস এখনো প্রবেশ করেনি এরপরেও প্রস্তুত ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাদিরুল আজিজ জানান ,ইতিমধ্যে আমরা একটি আলাদা ওয়ার্ড করেছি। যেখানে সাধারণ রোগীদের কোন প্রবেশ থাকবে না। ওই ওয়ার্ডে আমাদের যে নার্স থাকবে তাদের আমরা ট্রেনিং করিয়েছি। সেই সাথে সকল ধরনের সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 267 total views,  1 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top