সংবাদ শিরোনাম:

চীন থেকে দেশে ফেরার আকুতি শিবচরের আবিরের

চীনের ইচাং শহরের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ‘চায়না থ্রি গর্জেজ বিশ্ববিদ্যালয়’ এ ১৭২ বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী আটকে পড়েছেন। এর মধ্যে একজন শিবচরেরসহ ৩ জন মাদারীপুরের শিক্ষার্থীও রয়েছেন। শিবচরের মেডিক্যাল শিক্ষার্থী আশিক হাওলাদার আবির শিরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুরাদ হাওলাদারের ছেলে। লিখিতভাবে চীন থেকে আবির এ সকল শিক্ষার্থীদের আটকে পড়া অবস্থা থেকে উদ্ধারের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

আবিরের লিখিত আবেদনটি হুবুহু তুলে ধরা হলো
’আপনারা ইতিমধ্যেই উহান নোভেল করোনাভাইরাস সম্বন্ধে অবগত হয়েছেন। যেটা কিনা চায়নার হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহর থেকে উৎপত্তি হয়েছে এবং এই প্রদেশের বিভিন্ন শহরগুলোতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই হুবেই প্রদেশেরই অন্যতম একটি শহর হচ্ছে ইচাং যা কি না করোনাভাইরাসের উৎপত্তি স্থল উহান শহর থেকে মাত্র ২৮০ কিলোমিটারের দূরে। বলে রাখা ভালো ইচাং শহরে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় ‘চায়না থ্রি গর্জেজ বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের ৫০টি দেশের ছাত্রছাত্রীসহ রয়েছে বাংলাদেশের প্রায় ২৪০ জন। শীতকালীন ছুটি উপলক্ষে প্রায় ৬৮ জন ছাত্রছাত্রী বাংলাদেশে চলে গিয়েছিল (যখন কিনা করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেয়নি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে রয়ে গেছে আরো ১৭২ জন।

বর্তমান জরিপ অনুযায়ী, ইচাং শহরে ৫০০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং ৬ জন ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে। গত ২৩ জানুয়ারি ২০২০ থেকে আমাদের শহর ইচাং লক ডাউন করেছে চায়না সরকার কোনো রকম পূর্ব নোটিশ ব্যতীত। ট্রেন স্টেশন, এয়ারপোর্ট এবং শহরে সকল ধরনের যান-চলাচল, এমন কি শহরে বাজার ঘাট, সুপার শপসহ ছোট দোকানগুলোও বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো সিলড করা হয়েছে। যার দরুণ ১৭২ বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রী হলের ভিতর বন্দী জীবন অতিবাহিত করছেন। আতঙ্ক আরো বেড়ে গেছে যখন আমরা শুনলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রতিদিনই করোনাভাইরাসের জীবানু নিয়ে রোগী হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছে। শুধু আতঙ্ক নয়, রয়েছে মারাত্মক খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে দুজন বাংলাদেশি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিশুদ্ধ পানি ও পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে ১৭২ জন ছাত্রছাত্রীর অনেকেই অসুস্থ এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। প্রতিদিনই পরিবার পরিজনের আহাজারি শোনা যাচ্ছে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে। কখনো কারো কারো বাবা মা তাদের সন্তানের অবস্থা শুনে বার বার শোকে অচেতন হয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ পরিবারের কথা চিন্তা করে শত কষ্ট বুকে চেপে প্রতিনিয়ত ভালো থাকার মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছে তাদের বাবা মাকে। আপনারা ইতিমধ্যেই জেনেছেন, উহান থেকে বাংলাদেশে ৩১২ ছাত্রছাত্রী বাংলাদেশ সরকার পর্যাপ্ত শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আমরা বার বার চায়নার বেইজিং এ অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে আমাদেরকে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে কথা বললে দূতাবাসের কর্মকর্তারা প্রথম দিকে আমাদের আশ্বাস দিলেও অনেক দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও বর্তমানে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে কোন আশার বানী শুনতে পারা যায়নি।প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মন্ত্রী পরিষদে সিদ্ধান্ত হয়েছিলো এই ১৭২ জন শিক্ষার্থীকে চার্টাড ফ্লাইটের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে নেয়া হবে। তবে দাপ্তরিক জটিলতার কারনে আটকে গেছে সে-সব প্রক্রিয়া। তবে এখনো সবার আকুল আবেদন সরকারি হস্তক্ষেপে নিরাপদে দেশে ফিরে যাওয়ার।
মুঠোফোনে শিক্ষার্থী আশিক হাওলাদার আবির জানান, আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই। এখানে আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি।

আবিরের বাবা ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ হাওলাদার বলেন, আমার ছেলেসহ চীনে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

 147 total views,  1 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top