মোবাইলে ভূত তাড়ানো হয়!

মোবাইল ফোনে তদবিরের মাধ্যমে ভূত তাড়ানো হয়। মনের অমিল হলে তারও সমাধান করা হয়। দেশে কিংবা বিদেশে অসুবিধায় পড়লে উদ্ধার করে দেওয়া হয়। এসব ছাড়াও বান টোনা নষ্ট, দুশমন দমন, অসাধ্য কাজ সাধন, সংসারে অশান্তি, ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধা—সব কিছুই ঠিক করে দেওয়া হয় মোবাইল ফোনে তদবির করে। এমন ধরনের পোস্টারে ছেয়ে আছে চুয়াডাঙ্গা শহর। এসব পোস্টার কোন প্রেস থেকে ছাপা হয়েছে—তার উল্লেখ নেই। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে এ ধরনের পোস্টার প্রায় তিন মাস ধরে চুয়াডাঙ্গা শহরে দেখা গেলেও এ ব্যাপারে পুলিশকে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন অলিগলি পথ ঘুরে দেখা গেছে, দেয়ালে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে এসব পোস্টার। অন্তত ২০ ধরনের এমন পোস্টার আছে। সব পোস্টারের বক্তব্য প্রায় একই।
শহরের বিভিন্ন মহল্লার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাতের অন্ধকারে দেয়ালে পোস্টারগুলো সাঁটানো হয়। কারা এ কাজের সঙ্গে জড়িত কেউ বলতে পারেনি। সকালে ঘুম থেকে উঠে এসব পোস্টার দেখতে পায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা। চুয়াডাঙ্গা শহরের সব এলাকাতেই আছে এ ধরনের পোস্টার। তবে শহরের গুলশানপাড়া, বাজারপাড়া, মল্লিকপাড়া, শেখপাড়া, মাস্টারপাড়া, পুরাতনপাড়া, রেলবাজার, মসজিদপাড়া, কোর্টপাড়া, সিনেমা হল পাড়ায় এসব পোস্টার বেশি দেখা গেছে।

‘সীতা রানী বন কবিরাজ’ শিরোনামের পোস্টারে বলা আছে, ভারত থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। পোস্টারে উল্লেখ করা নম্বরে ফোন করে ভূত তাড়ানোর প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে অন্য প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘আসন না করে কোনো কিছু বলা যাবে না। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কাজ হবে। ভূতের উৎপাত বন্ধ হবে। সারা দেশে এবং দেশের বাইরেও আমার পোস্টার লাগানো আছে। অনেকেই উপকার পেয়েছেন।’

‘মো. মিলন কবিরাজ ও খোনার’ শিরোনামের একটি পোস্টারে রেজিস্ট্রেশন নম্বর হিসেবে লেখা আছে ১০৮৪/১২। মজার ব্যাপার হলো, ‘পূজা দেবী বন কবিরাজ’ নামের পোস্টারেও একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।
‘পারভীন সুলতানা’, ‘নূরজাহান বেগম কবিরাজ’, ‘মো. ইব্রাহিম কবিরাজ’সহ আরো কিছু পোস্টারে কোনো রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ নেই। সব পোস্টারেই ভারত থেকে কিংবা কামরুক কামাক্ষা থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বলে দাবি করা হয়েছে।

এসব পোস্টার প্রসঙ্গে চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদর উদ্দিন বলেন, ‘এ ধরনের পোস্টারগুলো দেখে বোঝা যায়, সহজ-সরল মানুষদের সঙ্গে প্রতারণার জন্য এসব পোস্টার প্রচার করা হচ্ছে। সচেতন কোনো মানুষ এসব পোস্টারে আকৃষ্ট হবেন না।’

চুয়াডাঙ্গার একজন প্রিন্টিং প্রেসের মালিক নিজের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, প্রেস কর্তৃপক্ষও জানে যে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার ফাঁদ হিসেবে এই পোস্টারগুলো ব্যবহার করা হবে। এ জন্যই বোধ হয় এ ধরনের কোনো পোস্টারে প্রেসের নাম উল্লেখ করা নেই।

এসব পোস্টারে উল্লেখ থাকা কয়েকটি মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে অন্য প্রান্ত থেকে দাবি করা হয়, তাঁরা সরকারের অনুমোদন নিয়ে কাজ করছেন। কী ধরনের বৈধতা আছে জানতে চাইলে বলা হয়, পোস্টারে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়া আছে।

এসব পোস্টার প্রসঙ্গে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি আবু জিহাদ মো. ফখরুল আলম খান বলেন, ‘শহরের চিকিৎসাসংক্রান্ত নানা ধরনের পোস্টার চোখে পড়ে। তবে এসব পোস্টার দেখে কেউ কখনো প্রতারিত হয়েছেন—এমন কোনো অভিযোগ এখনো পাইনি।’

 346 total views,  1 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top