সাংসদ শম্ভুর সামনেই আ’লীগ নেতা লাঞ্ছিত

বরগুনার আমতলীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সামনেই ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক লাঞ্ছিত হয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

এ নিয়ে দু’ পক্ষ সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মীসভায় বুধবার এ ঘটনা ঘটে।

সূত্র জানায়, বুধবার পুরাতন হাসপাতাল সড়কের মজুমদার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ কর্মীসভার আহবান করা হয়। কর্মীসভায় উপজেলার সকল ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের ডাকা হয়। সভার শুরুতে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মোঃ মাহবুবুর রহমান তার লোকজন নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে মূল ফটক আটকে দেন। এ সময় পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জিএম মুছা মূল ফটক আটকে দেয়ার প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাহবুবুর রহমান পৌর আওয়ামী লীগের এই নেতাকে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায়  উপস্থিত উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।  পরে পুলিশ ও জেলা নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঘটনার সময় বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও সাধারণ সম্পাদক  জাহাঙ্গীর কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু সহ জেলার নেতারা  উপস্থিত ছিলেন। জেলা নেতাদের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ সভাপতির এ রকম আচরনে তারা হতভম্ব হয়ে যান।

এ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  জাহাঙ্গীর কবির ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ছাত্রলীগের সভাপতি মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।  পরে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জনান, কর্মীসভায় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ভিতরে প্রবেশ করেই মূল ফটক বন্ধ করে দেন। পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মূল ফটক বন্ধ করার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় ছাত্রলীগ সভাপতি মাহবুবুর রহমান পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লাঞ্ছিত করেন। পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। 

জিএম মুছা লাঞ্ছিত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘মাহবুবুর রহমান কর্মীসভায় প্রবেশ করে কোন নেতা কর্মীকে ভিতরে প্রবেশ করতে দিবে না বলে মূল ফটক বন্ধ করে দেয়। আমি এর প্রতিবাদ করলে আমাকে লাঞ্ছিত করে।’

উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মুছা ভাইয়ের লোকজনকে পুলিশ ঢুকতে বাধা দেয়ার কারণে তিনি আমাকে মারধর করেন।’

আমতলী থানার ওসি মো. আবুল বাশার বলেন, ‘কর্মীসভায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করি।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন,  ‘সভা কক্ষে কে ঢুকবে আর কে ঢুকবে না এই নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির সঙ্গে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ  সম্পাদকের  মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।  এক পর্যায়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মুছাকে লাঞ্ছিত  করলে  উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ  হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতির অসৌজন্যমূলক আচরণের  ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেস আশ্বাস দিয়েছেন।’

 319 total views,  2 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top