তদবিরে রাজি না হওয়ায় শিক্ষককে বদলির অভিযোগ

নিবেদিতপ্রাণ সৎ কর্মনিষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছে খুবই জনপ্রিয় আবদুর রশিদ। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেয়ার পর রাজশাহী গভ. ল্যাবরেটরি স্কুল বোর্ডের ফলাফলে পরপর তিনবার রাজশাহী বিভাগের শীর্ষ স্কুলের স্থানটি দখল করেছে। চলমান এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র সচিবও তিনি। এরই মধ্যে ১১ ফেব্রুয়ারি আকস্মিকভাবে আবদুর রশিদকে বদলি করা হয়েছে সিরাজগঞ্জের দুর্গম কাজীপুরের এএমইউ সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুকের পক্ষে বদলিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম টুকু। বদলির আদেশে কোনো কারণ বলা হয়নি। কবে দায়িত্ব ছাড়তে হবে, কবে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে- এসবও নেই বদলির আদেশে।

আবদুর রশিদ বলছেন, নিয়ম ভেঙে এক শিক্ষার্থীকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির সুপারিশ না শোনায় তার এ শাস্তিমূলক বদলি। তার বদলিতে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। প্রয়োজনে তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করবেন। বদলি বাতিলের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি মাউশির মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও গভ. ল্যাবরেটরি স্কুলের সভাপতি মো. হামিদুল হক। জেলা প্রশাসক বলেন, আবদুর রশিদ একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। বদলির কারণ অনুসন্ধান করছে গোয়েন্দা সংস্থা। ওই সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানান, আবদুর রশিদ কোচিং বাণিজ্যের ঘোর বিরোধী। কারা এ ভালো শিক্ষককে সরিয়ে দেয়ার পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন, সেটা খুঁজে দেখা হচ্ছে।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানায়, রাজশাহীতে পুলিশের ফরেনসিক ল্যাবের এক টেকনিশিয়ানের ছেলেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মাউশির উপপরিচালকের পক্ষ থেকে ১৯ জানুয়ারি চিঠি আসে প্রধান শিক্ষকের কাছে। নবম শ্রেণিতে ল্যাবরেটরি স্কুলে কোনো আসন শূন্য নেই এবং মেধা বিবেচনায় নগরীর অন্য কোনো সরকারি স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে ৯ ফেব্রুয়ারি প্রধান শিক্ষক ফেরত চিঠি দেন উপপরিচালককে।

ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষকরা জানান, কয়েকদিন আগে চট্টগ্রাম অঞ্চলের একটি জেলার পুলিশ সুপার, যার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে, তিনি এই শিক্ষার্থীকে ভর্তির জন্য প্রধান শিক্ষককে ফোন করে চাপ দেন। প্রধান শিক্ষক তাকে নিয়মের বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন। এরপর ওই এসপি শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোন করেন। এর দুদিন পর মাউশি থেকে আবদুর রশিদের বদলির আদেশ জারি হয়। মাউশির সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম টুকু বলেন, বদলির নির্দিষ্ট কোনো কারণ আমার জানা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আবদুর রশিদের বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে।

 292 total views,  2 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top