এপ্রিল থেকে ঢেলে সাজবে আ.লীগ

দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে এপ্রিল থেকে আওয়ামী লীগ ঢেলে সাজবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে দলের এক যৌথসভায় এ কথা জানান তিনি।

দলের ঢাকা বিভাগের অধীন সকল সাংগঠনিক জেলা, মহানগরের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সংসদ সদস্যদের নিয়ে এই সভা হয়।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা মোট ২৯টি সম্মেলন করেছি। এর মধ্যে দুটি ঢাকা সিটিতে। কিন্তু ঢাকা বিভাগে এ পর্যন্ত কোনো সম্মেলন হয়নি। শেখ হাসিনার বড় নির্দেশনা হচ্ছে দলকে সাজাতে হবে। সাংগঠনিকভাবে সৃশৃঙ্খল এবং সংগঠনকে সময়ের চাহিদা মেটানো আমাদের অত্যাবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দল ক্ষমতায় থাকায় সাংগঠনিক দুর্বলতা টের পাচ্ছেন না।’

“অনেক জায়গায় দেখা যায়, ৮-১০ বছর হয়ে গেছে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হয়ে আছেন। সেখানে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। আবার অনেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিচ্ছেন। তাদের অনুমোদন পেতে পেতে ছয় মাস লাগছে। সম্মেলন করতে বললে তারা বলেন, ‘আমাদের তো মেয়াদ শেষ হয়নি।’ তবে সম্মেলন যেদিন থেকে হবে ক্ষণ গণনা সেদিন থেকে হবে। আপনারা কেন্দ্রীয় সম্মেলন থেকে শিক্ষা নেন।”

তিনি বলেন, ‘কমিটি করতে গিয়ে নিজের লোক পকেটে ঢুকাবেন না। এতে দলের কোনো লাভ হয় না। দল ভারী করার জন্য বিতর্কিত ব্যক্তিদের আনবেন না। এপ্রিল থেকে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা ঢেলে সাজাবেন। এরপর জেলাগুলোর সম্মেলন হবে। ঘরে বসে কমিটি করার কালচার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নয়তো দল শেষ হয়ে যাবে।’

“সম্মেলন ছাড়া কোনো কমিটি করা যাবে না। অনেক সময় জেলার নেতৃবৃন্দ উপজেলা, ইউনিয়ন কমিটি ভেঙে দিয়েছেন। এটা হবে না। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া কোনো কমিটি ভাঙা যাবে না। কমিটি ভাঙতে হলে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করবেন। নেত্রী পর্যন্ত বিষয়টি গড়াবে। সেখানেই ফাইনাল সিদ্ধান্ত হবে যে, এই কমিটি ভাঙার জন্য আপনার সুপারিশ যথাযথ কি না? কোনো কারণে আপনার সাথে বনিবনা হলো না বলে যে কাউকে বহিষ্কার করে দিলেন। এভাবে বহিষ্কার করা যাবে না। কমিটি নিয়ে বসতে হবে। কমিটির কাছে বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করতে পারেন। কিন্তু সরাসরি বহিষ্কার করতে পারবেন না।”

নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এখন সুসময়, কিন্তু দুঃসময় আসবে না; এটা কখনো ভাববেন না। কেউ কারো থাকবে না। আজকে নিজের মনে করে একজনকে নেতা বানাচ্ছেন। আপনার যখন খারাপ সময় আসবে আপনাকে সালামও দেবে না। কাজেই এসব নেতা বানিয়ে লাভ নেই।’

যৌথসভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল মুহাম্মদ ফারুক খান, আব্দুর রহমান, মো. শাহজাহান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাম, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মোহাম্মদ মন্নাফি, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 428 total views,  2 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top