‘ক্রসফায়ারের’ ভয় দেখিয়ে ২৩ লাখ টাকা নেওয়ার মামলায় ওসি–এসআইসহ পাঁচজন আসামি

চট্টগ্রামে ‘ক্রসফায়ারের’ ভয় দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২৩ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে ওসিসহ সাত পুলিশের বিরুদ্ধে নালিশি মামলা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) আমেনা বেগমকে নির্দেশ দেন।

আজ বুধবার অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে মামলাটি করেন ব্যবসায়ী মো. ইয়াছিন। নগরের পলিটেকনিক এলাকায় তাঁর রড, সিমেন্টের দোকান রয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন বায়েজীদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার, চান্দগাঁও থানার ওসি খন্দকার আতাউর রহমান (বায়েজীদ থানার সাবেক ওসি), বায়েজীদ থানার উপপরিদর্শক মো. আফতাব, সহকারী উপপরিদর্শক মো. ইব্রাহীম, মিঠুন নাথ, কনস্টেবল মো. রহমান ও সাইফুল।

বাদীর আইনজীবী নজরুল ইসলাম বলেন, আদালত বাদীর বক্তব্য নেওয়ার পর ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ২৩ লাখ টাকা আদায়ের ঘটনাটি তদন্তের জন্য নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) আমেনা বেগমকে নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, কোনো মামলা কিংবা অভিযোগ না থাকলেও গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী ইয়াছিনকে পলিটেকনিক এলাকা থেকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় বায়েজীদ বোস্তামী থানা-পুলিশ। পরে তাকে থানায় আটকে রেখে ‘ক্রসফায়ারের’ হুমকি দেওয়া হয়। দাবি করা হয় ২০ লাখ টাকা। পরে ব্যবসায়ীর পরিবার পরিচিতজনদের কাছ থেকে ধার নিয়ে বায়েজীদ বোস্তামী থানা-পুলিশের হাতে ১১ লাখ টাকা তুলে দেন। পরে তাঁকে থানা থেকে ছাড়া হয়। এই ঘটনা কাউকে বললে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। সাদা কাগজে নেওয়া হয় সই। পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে প্রাণে বাঁচতে এই ঘটনা কাউকে জানানো হয়নি।

সর্বশেষ ৪ ফেব্রুয়ারি নগরের শের শাহ এলাকা থেকে বায়েজীদ বোস্তামী থানা-পুলিশ তাঁকে আবার ধরে নিয়ে যায়। এবার থানার ভেতর না ঢুকিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে নগরের অনন্যা আবাসিক এলাকাসহ নির্জন কয়েকটি স্থানে ঘুরায়। সেখানে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয়। দাবি করা হয় ৫০ লাখ টাকা। বাধ্য হয়ে আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ধার নিয়ে ১২ লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়। টাকা পাওয়ার পর নগরের আতুরার ডিপো এলাকায় মাইক্রোবাস থেকে ইয়াছিনকে নামিয়ে দেয়।

ব্যবসায়ী মো. ইয়াছিন বলেন, পুলিশ ক্ষতি করতে পারে এ জন্য ভয়ে প্রথমবারের ঘটনা কাউকে বলেননি। দ্বিতীয়বার করার পর থেকে তিনি ভয়ে আছেন। তারা আবার করলে টাকা কোথা থেকে দেবেন। থানার সিসি ক্যামেরা দেখলে সব পাওয়া যাবে। যাদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে পুলিশকে দিয়েছেন তারা সবাই সাক্ষ্য দেবেন।

জানতে চাইলে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আজ সন্ধ্যায় বায়েজীদ বোস্তামী থানার ওসি প্রিটন সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ইয়াছিন নামের কোনো ব্যক্তিকে তিনি চেনেন না। এ রকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি। প্রথম ঘটনার সময় বায়েজীদ থানায় কর্মরত ছিলেন খন্দকার আতাউর রহমান। বর্তমানে তিনি চান্দগাঁও থানার ওসি। তিনি বলেন, ওরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।

 444 total views,  2 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top