লবণ চাষিরা উৎপাদিত লবণের ন্যায্য দামের অভাবে হতাশ চাষিরা

উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার লবণচাষি। বিগত কয়েক বছর ধরে সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে লাখ লাখ মেট্রিক টন সোডিয়াম ক্লোরাইড (ভোজ্য লবণ) আমদানি হওয়ার কারণেই মূলত মাঠে উৎপাদিত লবণের (অপরিশোধিত) ন্যায্যদাম থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে উপকূলের লবণচাষিরা। ২০২১-২২ লবণ উৎপাদন মৌসুম ঘনিয়ে এলেও মাঠে উৎপাদিত লবণের মূল্যবৃদ্ধি নেই। যদিও সরকার চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে বিদেশ থেকে সোডিয়াম সালফেট আমদানির ওপর শুল্কহার ৩২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮৯ শতাংশ করেছে। কিন্তু তারপরও প্রতি মণ লবণ ধোলাই খরচসহ ১৯০, ২১০ ও ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ মৌসুমে প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে চাষিদের গুনতে হয়েছে গড়ে ২৪৭ থেকে ২৫০ টাকারও বেশি। যে কারণে লবণ উৎপাদন মৌসুম ঘনিয়ে এলেও মাঠে প্রায় ৭ লাখ মেট্রিক টনেরও অবিক্রীত মজুদ লবণ রয়েছে। লবণচাষি এবং লবণ শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চলতি ২০২০-২০১ মৌসুমে ২২ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন লবণ চাহিদার বিপরীতে ৫৪ হাজার ৬৫৪ একর লবণ মাঠে ১৬ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। লবণ মৌসুমের শুরুতে গত মৌসুমের উদ্বৃত্ত ৩ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টনসহ বেসরকারিভাবে আমদানিকৃত প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ মেট্রিক টন লবণ উদ্বৃত্ত থাকায় দেশে লবণের চাহিদার ঘাটতির কোনো সম্ভাবনা নেই। প্রতি বছর নভেম্বরের ১৫ তারিখ থেকে পরের বছরের ১৫ মে পর্যন্ত হচ্ছে দেশে লবণ উৎপাদন মৌসুম। ওই হিসাবে নতুন লবণ উৎপাদন মৌসুম ঘনিয়ে এলে মাঠে উৎপাদিত লবণের প্রকৃত মূল্য না পেয়ে উপকূলের লবণচাষিরা হতাশা ভুগছে।
সূত্র জানায়, সরকারের বিশেষ নজরদারির মধ্যেও বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে দেশের কয়েক হাজার মাঝারি ও বড় শিল্পকারখানা ছাড়াও পাঁচটি ক্যামিকেল কোম্পানি কসটিক সোডা ও ক্লোরিন উৎপাদনের জন্য বিদেশ থেকে সোডিয়াম সালফেট আমদানি করে। ওই সুযোগে কিছু অসাধু মালিকপক্ষ সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে লাখ লাখ মেট্রিক টন সেডিয়াম ক্লোরাইড (ভোজ্য লবণ) আমদানি করছে এবং অতিরিক্ত লবণ সরাসরি বাজারজাত করছে। যে কারণে মাঠে উৎপাদিত লবণের প্রকৃত মূল্য পাচ্ছেন না চাষিরা। শুধু ওই কারণে কয়েক বছর ধরে চাষিরা লবণের প্রকৃত মূল্য পাচ্ছে না। যদিও সরকার লবণশিল্প ও তার সাথে জড়িত হাজার হাজার চাষির স্বার্থ রক্ষায় নামমাত্র সুদে ঋণ প্রদান শুরু করেছে।
এদিকে বিসিকের লবণ প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার জাফর ইকবকাল ভূঁইয়া জানান, অবিক্রিত অবস্থায় মাঠে প্রায় ৭ লাখ মেট্রিক টন লবণ মজুদ রয়েছে। তবে সরকার সোডিয়াম সালফেট আমাদানির ক্ষেত্রে শুল্কহার ৩২ শতাংশ থেকে ৮৯ শতাংশ বাড়িয়েছে। ফলে সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে কেউ আর অতিরিক্ত লবণ আমদানি করতে উৎসাহিত হবে না। আশা করা যায় আগামী কয়েক মাসের মধ্যে চাষিরা লবণের ন্যায্য মূল্য পাবে। মৌসুমে ৪০-৫০ হাজার টাকা করে চাষিদের মধ্যে নামমাত্র সুদে ৫৩ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। লবণচাষিরা এবারো প্রায় ৬০ লাখ টাকার ঋুসুবিধা পাবে।

 30 total views,  1 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top