সংবাদ শিরোনাম:

ডলারের উচ্চমূল্যে আমদানি পণ্যের মূল্য বাড়ার আশঙ্কা

ক্রমাগত বেড়েই চলেছে বৈদেশিক মুদ্রা মার্কিন ডলারের দাম। বর্তমানে খোলাবাজারে প্রতি ডলার ৮৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৮৮ টাকা ৬০ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে। খোলাবাজারের সঙ্গে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারের দামের পার্থক্য ইতোমধ্যে ৩ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে ওই পার্থক্য দেড় থেকে দুই টাকা থাকে। মূলত সরবরাহের চেয়ে চাহিদা বেশি হওয়ায় খোলাবাজারে ডলারের দাম বেশি বাড়ছে। আর তাতে আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ডলারের দাম বাড়ায় আমদানিকারকদের বেশি দাম দিয়ে এলসি খুলতে হচ্ছে। ফলে আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। তাছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উচ্চ শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভ্রমণে বিদেশগামীরা। তবে এ অবস্থায় রফতানিকারক ও প্রবাসীরা লাভবান হচ্ছে। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ডলারের উচ্চমূল্য সঙ্কট সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দামে লাগাম টানার চেষ্টা থাকলেও প্রতিদিনই খোলাবাজারে ডলারের দাম বাড়ছে। একইসঙ্গে কয়েকটি ব্যাংক চড়া দামে নগদ ডলার বিক্রি করছে। মূলত করোনার পরে এখন আমদানিতে গতি আসায় অনেক ব্যাংকেই ডলার সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে ডলারের দাম।
সূত্র জানায়, করোনার মধ্যেও দেশে সমানে ভোগ্যপণ্য আমদানি চলছে। আর রফতানিতে গতি আসায় শিল্পের কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানিও বেড়েছে। তাছাড়া শিল্প স্থাপনের মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানিও বাড়তে শুরু করেছে। সব মিলে কয়েক মাস ধরে আমদানি ব্যয় বেশ বেড়েছে। আবার করোনার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার দায় পরিশোধে অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধার মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে আগের দায় পরিশোধও বেড়েছে। তাতে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। একই সময়ে প্রবাসী আয়ে এসেছে নিম্নমুখী প্রবণতা। অর্থনীতির ওই সূচক টানা ৫ মাস ধরে নিম্নমুখী । আগস্ট মাসে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে ১৮১ কোটি ডলার। যা গত ৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। তাছাড়া এটি গত অর্থবছরের একই মাসের চেয়ে প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি ডলার কম। সব মিলে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) রেমিট্যান্স এসেছে ৩৬৮ কোটি ডলার। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৯ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪৫৬ কোটি ডলার।
সূত্র আরো জানায়, গত অর্থবছরে সার্বিক আমদানি ব্যয় প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। আর এ সময়ে মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি খোলা বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১৫ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের এলসি বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। শিল্পের কাঁচামালের এলসি বেড়েছে ২১ শতাংশ। তাছাড়া শিল্পের মধ্যবর্তী পণ্যের এলসি বেড়েছে সাড়ে ২০ শতাংশ।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু আগস্টের শুরু থেকে ক্রমাগত দাম বাড়তে শুরু করে। আর এখন তা সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা ২৭ পয়সায় ওঠেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক দাম বাড়ার বিষয়টি টের পেয়ে আগেই বাজারে ডলার বিক্রি শুরু করে। কিন্তু ডলারের দামে লাগাম টানতে না পেরে আগস্টের পর সেপ্টেম্বর মাসেও বাজারে ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ডলার বিক্রি করেনি। কিন্তু আগস্টে ৩০ কোটি ৫০ লাখ ও ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দফায় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে।
অন্যদিকে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি পর্যটক ও যাত্রীদের আসা-যাওয়া সীমিত হয়ে যাওয়ায় খোলাবাজারে নগদ ডলারের সরবরাহ তুলনামূলক কম ছিল। এখন লকডাউন উঠে যাওয়ায় বিদেশি পর্যটক ও যাত্রীদের আসা-যাওয়া কিছুটা শুরু হয়েছে। যদিও তা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক কম। তাছাড়া করোনার মধ্যেই চিকিৎসাসহ জরুরি প্রয়োজনে অনেকেই দেশের বাইরে যাচ্ছে। তারা খোলাবাজার থেকে নগদ ডলার সংগ্রহ করছে। কারণ ব্যাংক থেকে ডলার কিনতে গেলে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু খোলাবাজারে সহজেই ডলার কেনা যায়। খোলাবাজারে বর্তমানে প্রতি ডলারের দাম রাখা হচ্ছে ৮৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৮৮ টাকা ৬০ পয়সা পর্যন্ত। একইভাবে ৮৮ টাকা দরে কয়েকটি ব্যাংকও নগদ ডলার বিক্রি করছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, লকডাউন উঠে যাওয়ার পর অর্থনৈতিক কর্মকা- সচল হচ্ছে। ডেফার্ড এলসির দায় পরিশোধ করতে হচ্ছে। তাতে ডলারের চাপ বাড়ছে। আর কোনো পণ্যের চাহিদা বাড়লে সংকট ও দাম এমনিতেই বেড়ে যায়। তবে বাজারে যেন ডলারের সংকট তৈরি না হয় সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছুদিন ধরেই ডলার বিক্রি করছে। গত মাসে দুই দফায় ডলার বিক্রি করা হয়েছে। চলতি মাসেও ডলার বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক কখনো খোলাবাজারে ডলার বিক্রি করে না। কোনো ব্যাংক ডলার সংকটে এলসি খুলতে না পারলে কেবল ওই ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করা হয়।

 43 total views,  2 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top