সংবাদ শিরোনাম:

মমতার টিকে থাকার লড়াই, কড়া নিরাপত্তায় চলছে ভোট

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ ধরে রাখার জন্য সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রাজ্যটির দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর আসন থেকে উপনির্বাচনে লড়ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেত্রী।

ফলে রাজ্যের আরও দুটি কেন্দ্রে বিধানসভার উপনির্বাচন হলেও সবার নজর এখন ভবানীপুরের দিকেই।

স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে এসব কেন্দ্রে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে মমতার বিপরীতে রয়েছেন বিজেপির প্রার্থী আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল।

এদিকে দিনের শুরুতে ভবানীপুরের পুলিশের কাছে বিজেপি প্রার্থী প্রিয়ঙ্কার প্রশ্ন রেখেছেন, ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। তাও বুথের ২০০ মিটারের মধ্যে কী ভাবে দোকান খোলা থাকে? বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।

ভবানীপুরের ১০০ শতাংশ বুথেই ভোট শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফে। ওই কেন্দ্রের সব বুথে রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মাইক্রো অবজারভার। প্রায় সাড়ে তিন হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীও রয়েছে ভবানীপুরের বুথে বুথে। ভবানীপুরের ভোট নির্বিঘ্নে শেষ করতে তৎপর প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ওই কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথে ঘুরছেন পুলিশ পর্যবেক্ষক। এছাড়া সব বুথে বুথে ঘুরে দেখছেন তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটররা।

ভোট শুরু হতেই মিত্র ইনস্টিটিউশনের বুথে গিয়ছিলেন বিজেপি প্রার্থী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল। সেখানে তিনি বলেছেন, ঠিকমতো ভোট হলে আমরাই জিতব। পাশাপাশি ১২৬ নম্বর বুথে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তবে এই অভিযোগ, অস্বীকার করেছে কমিশন। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, মক পোলের জন্য ওই বুথে ভোট শুরু হতে একটু দেরি হচ্ছে। কোনও ইভিএম বিভ্রাট হয়নি বলেও জানানো হয়েছে কমিশনের তরফে।

দক্ষিণ কলকাতার এই কেন্দ্রই ঠিক করে দেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বের ভবিষ্যৎ। ১০ বছর আগে প্রথম বার মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই জিতে প্রথম বার বিধানসভায় গিয়েছিলেন মমতা। তার আগে বরাবর তিনি লোকসভার সাংসদ হিসেবে জনপ্রতিনিধিত্ব করেছেন।

মমতা যে জিতবেন, তা নিয়ে তৃণমূলের কোনও স্তরেই কোনও সংশয় নেই। কিন্তু তৃণমূল তথা মমতার কাছে এই লড়াই আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধানের কারণে। বিধানসভা ভোটে ভবানীপুর থেকে জিতেছিলেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। মমতার জন্যই তিনি কেন্দ্রটি ছেড়ে দিয়েছেন। শোভনদেবের জয়ের ব্যবধান ছিল ২৭ হাজারের কিছু বেশি।

এই উপনির্বাচনে মমতার জয়ের ব্যবধান তার চেয়েও বেশি রাখতে চায় তৃণমূল। তবে পাশাপাশিই তাদের মাথায় রাখতে হচ্ছে, উপনির্বাচনে এমনিতেই ভোট কম পড়ে। ভোট কম পড়লে জয়ের ব্যবধানও কম হবে। ফলে দিনের শেষ কত ভোট পড়ল, সেদিকেও নজর থাকবে শাসক এবং বিরোধী শিবিরের।

মমতার বিরুদ্ধে ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী করেছে আইনজীবী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়ালকে। সিপিএম প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাসও আইনজীবী। সব মিলিয়ে মোট ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই উপনির্বাচনে। শমসেরগঞ্জে প্রার্থীর সংখ্যা সাত, জঙ্গিপুরে নয়।

উল্লেখ্য, গত মার্চ-এপ্রিলে আট দফায় বিধানসভার ভোটগ্রহণ হয় পশ্চিমবঙ্গে। ফলপ্রকাশ হয় ২ মে। এতে মমতার নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ২৯২ (প্রার্থীর মৃত্যুতে শমসেরগঞ্জ বা জঙ্গিপুরে ভোট হয়নি) আসনের মধ্যে ২১৩টিতে জিতে ক্ষমতা ধরে রাখে। তবে দল জিতলেও নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যান তৃণমূল সুপ্রিমো। এরপর গত ৫ মে মুখ্যমন্ত্রী পদে তৃতীয়বারের মতো শপথ নেন মমতা। তবে মন্ত্রিত্ব রাখতে হলে তাকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে উপনির্বাচনে জিতে আসতে হবে। এ কারণে পুরোনো ঘাঁটি ভবানীপুর থেকেই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ‘ঘরের মেয়ে’।

 57 total views,  2 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top