সংবাদ শিরোনাম:
«» দক্ষিণ আফ্রিকায় ২৪ ঘণ্টায় দ্বিগুণ হয়েছে ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা «» আফ্রিকা থেকে কেউ দেশে এলে বোর্ডিং পাস দেওয়া হবে না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী «» আগামী বহু বছর ধরে প্রতি বছর করোনা ভাইরাসের টিকা নিতে হবে: ফাইজার প্রধান «» নারী কনস্টেবলের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা ইন্সপেক্টর «» ১৬ ডিসেম্বর দেশের মানুষকে শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী «» দেশ ছেড়ে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন আব্বাস «» সরকার খালেদা জিয়াকে স্তব্ধ করে দিতে চায়: ফখরুল «» দীর্ঘদিন পর সুপ্রিম কোর্টের শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারকাজ শুরু «» মারধর-ধর্ষণচেষ্টা মামলায় পরীমণির নারাজি «» ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বৃষ্টির আভাস

আব্বাসকে আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল করা ‘পাপ হবে’- এমন বক্তব্যের অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পর রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনীতির মাঠ। বঙ্গবন্ধুর অবমাননার অভিযোগে তার শাস্তির দাবিতে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারাও। মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাও হয়েছে থানায়।

মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল মমিন বোয়ালিয়া থানায়, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন আনার রাজপাড়া থানায় এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন চন্দ্রিমা থানায় মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করতে এজাহার দাখিল করেন।

তবে পুলিশ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবদুল মমিনের এজাহার মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছে। একই অভিযোগের জন্য একই আইনে এজাহার দেওয়ায় অন্য দুটি মামলা রেকর্ড হয়নি।

এর আগে গত সোমবার রাত থেকে দুটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। বলা হচ্ছে অডিও দুটির কথোপকথন আব্বাসের। একটি অডিওতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ করলে ‘পাপ হবে’ এমন কথা বলতে শোনা যাচ্ছে।

অন্যটিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সমালোচনা করা হচ্ছে। ঘরোয়া বৈঠকের ওই কথোপকথনে অশ্লীল ভাষায় গালাগালও রয়েছে। অডিও দুটি ছড়িয়ে পড়লে রাজশাহীতে তোলপাড় শুরু হয়।

আব্বাসকে পদ থেকে অব্যাহতি
মেয়র আব্বাস পবা উপজেলার কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার বক্তব্যের বিষয়ে গত বুধবার বিকালে জরুরি সভা করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। সভায় তাকে আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগ বহিষ্কার করতে পারে না। তাই পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আজ বৃহস্পতিবার সকালে তার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে। তিনদিনের মধ্যে তাকে জবাব দিতে হবে। এই জবাব আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কাগজপত্র আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হবে।

আ’লীগের বিক্ষোভ
আব্বাসের শাস্তির দাবিতে মাঠে নেমেছেন কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা কাটাখালী বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল থেকে আব্বাসের শাস্তি চেয়ে নানারকম সেøাগান দেয়া হয়। পরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম রিপন। সমাবেশ থেকে বক্তারা আব্বাসের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। নইলে তারা বৃহস্পতিবারও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।

এদিকে মেয়রের অডিও ক্লিপ ইস্যুতে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় কাটাখালী বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুপুরে বিক্ষোভ চলাকালে কয়েকজন নেতাকর্মী কাটাখালী বাজারের ‘আব্বাস চত্বর’-এ ভাঙচুরের চেষ্টা করে। এতে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় উত্তেজনা দেখা দেয়। তখন পুলিশ আবদুল আউয়াল নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে আটক করে। এতে উত্তেজনা আরও বাড়ে। নেতাকর্মীরা মহাসড়কে বসে পড়েন। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ আউয়ালকে ছেড়ে দেয়। এরপর দুপুরে নেতাকর্মীরা কর্মসূচি শেষ করেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন
মেয়র আব্বাসের শাস্তির দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের রাজশাহী জেলা ও মহানগর ইউনিট কমান্ড সকাল ১০টায় নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামানিক এতে সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য রাখেন মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ডা. আব্দুল মান্নান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইশতিয়াক আহমেদ লিমন, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান প্রমুখ। বক্তারা বলেন, মেয়র আব্বাস আলী জামায়াত-বিএনপির এজেন্ট। তাকে কে দুই দুইবার নৌকা প্রতীক এনে দিয়ে মেয়র বানিয়েছে তাদেরও চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে।

কুশপুত্তলিকা দাহ
বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করার অভিযোগে মেয়র আব্বাস আলীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে রাজশাহীর সাবেক ছাত্রলীগ ফোরাম। গতকাল বুধবার বিকালে সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এই কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়। এর আগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে মেয়র আব্বাস আলীকে রাজশাহীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নফিকুল ইসলাম সেন্টু। শফিকুজ্জামান শফিকের পরিচালনায় বক্তব্য দেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান বাবু, আবদুল মমিন, মীর তৌহিদুর রহমান টিটু প্রমুখ।

গ্রেপ্তারের দাবি কাউন্সিলরদের
বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করে কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীর ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) কাউন্সিলরবরা। বুধবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে তাঁরা তীব্র নিন্দা জানিয়ে আব্বাস আলীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

বিবৃতিতে রাসিকের কাউন্সিলররা বলেন, ‘আব্বাস আলীর বক্তব্য অসাংবিধানিক, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আওয়ামী লীগের চেতনা ও নীতিমালার পরিপন্থী। আমরা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলররা মেয়র আব্বাস আলীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তাঁরা বলেন, ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধুর রক্তবন্ধু জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান। মেয়র লিটনকে নিয়ে অকথ্য, অশালীন, অশ্রাব্য ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন আব্বাস আলী। এতে আমরা কাউন্সিলররা চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত।’

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আমরা কাউন্সিলররা অনতিবিলম্বে মেয়র আব্বাস আলীকে আওয়ামী লীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কার জানাচ্ছি। পাশাপাশি রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

 49 total views,  2 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top