হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদি মারা গেছেন

অনলাইন ডেস্ক: হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদি আর নেই। সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর ল্যাব এইডে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শনিবার রাত ৯টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে সিসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়।

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদ্রিস বলেন, গত শনিবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় নুরুল ইসলামকে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ দুপুরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মীর ইদ্রিস জানান, আজ এশার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে নুরুল ইসলামের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

নুরুল ইসলাম জিহাদী শিক্ষাজীবন সমাপ্তির পর পটিয়া থানাধীন কৈয়গ্রাম মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবনের সূচনা হয়। ওই মাদরাসায় এক বছর শিক্ষকতার পর বাবুনগর মাদরাসায় আহুত হলে সেখানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হন।

এরপর বাবুনগর মাদরাসায় কয়েক বছর অধ্যাপনার পর ঢাকার আশরাফুল উলুম বড় কাটারা মাদরাসায় ১৯৮২ সাল পর্যন্ত অধ্যাপনা করেন। এ সময়ে তার বাবার মৃত্যুর পর তিনি নিজ বাড়িতে চলে যান ও পুনরায় বাবুনগর মাদরাসায় যোগদান করেন।

১৯৮৪ সালের ১০ জুলাই তিনি ঢাকা জেলার অন্তর্গত খিলগাঁওয়ে আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম প্রতিষ্ঠা করেন। অদ্যাবধি তিনি এই মাদরাসার মহাপরিচালক ও শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি দারুল উলুম হাটহাজারীর মজলিসে শূরা এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা ও আমেলার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৮ সালে তিনি ইসলামী আন্দোলন পরিষদ নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার করেছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় ছিদ্দিক আহমদের সাহচর্যে ছিলেন। কাদিয়ানী বিরোধী আন্দোলন ও খতমে নবুয়ত আন্দোলনকে বেগবান করার লক্ষ্যে ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ’র মহাসচিব হন তিনি। পরে ২০২০ সালের ২৬ ডিসেম্বর তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব নির্বাচিত হন।

 48 total views,  1 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top