প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক সুপার হয়েছে’, ভালো কিছু হবে

অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম।

সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির চেয়ারম্যান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক সুপার হয়েছে। বৈঠকে পুঁজিবাজার নিয়েই সব আলোচনা হয়েছে। আশা করছি অনেক ভালো কিছু হবে।

শেয়ারবাজারে টানা পতনের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় বসে বিএসইসি। গতকালের বৈঠকের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে তাদের আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির আলোচনার পরদিন আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান শিবলী রুবাইয়াত। পুঁজিবাজারের সার্বিক বিষয় সরকারপ্রধানকে অবহিত করতে যান তিনি। পাশাপাশি বাজারের উন্নয়নে বিএসইসির নেওয়া নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর গাইডলাইনও চান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি বিএসইসির চেয়ারম্যান। তবে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা সুপার হয়েছে। যাতে তিনি তৃপ্ত।

বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, শেয়ারবাজারের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। কোন কোন বাধার কারণে শেয়ারবাজার তার নিজস্ব গতিতে যেতে পারছে না সে বিষয়গুলোও তুলে ধরেছেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে শিবলী রুবাইয়াত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার একান্তে বৈঠক হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগে বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো আমার বলা ঠিক হবে না।

সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে যে আলোচনা হয়েছে, পুঁজিবাজারে তা কেমন প্রভাব ফেলবে এমন প্রশ্নে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘অনেক ভালো হবে। সব আলোচনায় হয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ে। শেয়ারবাজার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক।’

করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত বছরের মে মাসে বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পুঁজিবাজারে ভালো দিন ফিরতে শুরু করে। প্রায় এক যুগ আগের মহাধসে হারানো শেয়ারের দর কিছুটা হলেও ফিরে পেতে শুরু করে।

প্রথম দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও শেয়ারবাজারে তারল্য বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেয়। ব্যাংকগুলোতে তার বিনিয়োগীসার বাইরে গিয়ে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেয় আলাদা তহবিল করে।

শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব ফেরার প্রক্রিয়ায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সূচক মহাধসের পর প্রথমবারের মতো ৭ হাজার পয়েন্টের সীমা অতিক্রম করে। কিন্তু এ পর্যায়ে এসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কিছু পদক্ষেপ শেয়ারবাজারে তারল্য কমিয়ে দেয়। এরপরই কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিছুটান দিতে থাকে।

ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ তার সীমার মধ্যে আছে কি না, সে বিষয়টিতে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি প্রতিদিনের লেনদেনের তথ্য চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাজারমূল্যে বিনিয়োগসীমা নির্ধারণ করায় শেয়ার মূল্য বেড়ে গিয়ে ব্যাংকের সেই নির্ধারিত অঙ্কের বেশি শেয়ার ধারণ করলেই জরিমানার মুখে পড়তে হয় ব্যাংকগুলোকে।

পাশাপাশি ব্যাংকগুলো বন্ডে যে বিনিয়োগ করেছে, সেটিও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগসীমার মধ্যেই ধরার কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনা করা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কাছেও প্রতিদিনের লেনদেনের তথ্য চায় তারা।

এসব ঘটনায় বাজারে অযাচিত বিক্রয় চাপ তৈরি হয়, নতুন বিনিয়োগও আটকে যায়। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বড় বিনিয়োগকারীরাও হাত গুটিয়ে বসে থাকে।

ফলে শুরু হয় ধসের মতো পরিস্থিতি। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠকের আগের আট কর্মদিবসে একদিন বাড়ে প্রতিদিনই সূচক পড়েছে। এই কয়দিনেই বাজার থেকে সূচক কমে যায় প্রায় ৪০০ পয়েন্ট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে গতকালের বৈঠক শেষে বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, তারা যেসব দাবি তুলেছিলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা মেনে নিয়েছে। বন্ডে বিনিয়োগ ব্যাংকের বিনিয়োগসীমার বাইরে থাকবে। আবার সারা পৃথিবীর মতো ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট শেয়ারের ক্রয়মূল্যে বিবেচনার বিষয়য়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

 58 total views,  2 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top