‘ক্ষমতা’ বাড়াতে চায় দুদক

অনলাইন ডেস্ক: দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি প্রতিরোধের পাশাপাশি বিদেশে অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণ ও পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অন্যতম কাজ। তবে যে আইনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এসব কাজ করা হয়, সেই আইনে সব বিষয়ে কর্তৃত্ব নেই দুদকের।

বিদ্যমান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ২৭টি পেডিকেট অফেন্সের (সম্পৃক্ত অপরাধ) মধ্যে শুধু একটির (দুর্নীতি ও ঘুস) অনুসন্ধান ও তদন্তের ক্ষমতা রয়েছে কমিশনের।

বাকিগুলো করছে সরকারের ছয়টি সংস্থা-সিআইডি (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট বা অপরাধ তদন্ত বিভাগ), এনবিআর (ন্যাশনাল বোর্ড অব রেভিনিউ বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড), বিএসইসি (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন), পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কাস্টমস এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

যদিও প্রায় চার বছর আগে হাইকোর্টের এক রায়ে দুদককে মানি লন্ডারিং আইনের সব সম্পৃক্ত অপরাধের অনুসন্ধান-তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।

দুদক সূত্র জানায়, উল্লিখিত ক্ষমতা না থাকায় পানামা পেপারস, প্যারাডাইস পেপারস, পেন্ডোরা পেপারস, মালয়েশিয়ার মাই সেকেন্ড হোম প্রকল্প, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাতে অর্থ পাচারের মতো অনুসন্ধান-তদন্ত করা যাচ্ছে না।

কারণ নন-ব্যাংকিং চ্যানেলে পাচার করা এসব অপরাধের অনুসন্ধান-তদন্তের ক্ষমতা আইনে দুদককে দেওয়া হয়নি। অপরদিকে দুদক ছাড়া অদ্যাবধি বাকি সংস্থাগুলোও বিদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরতের নজির সৃষ্টি করতে পারেনি।

এ ধরনের অপরাধের অনুসন্ধান- তদন্তের ক্ষমতার বিধান রেখে আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে দুদক। এটি শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে। 

জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় সংসদ থেকে আইন পাশ হয়। তারা (সংসদ-সদস্যরা) যেভাবে চালাতে চান, সেভাবেই চালানো হবে। আমাদের কাছে যতটুকু দায়িত্ব দেওয়া হবে, আমরা ততটুকুই পালন করব।

দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, ২৭টি পেডিকেট অফেন্সের মধ্যে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পেডিকেট অফেন্সে অনুসন্ধান ও তদন্তের দায়িত্ব আমাদের দিলে তা সবার জন্যই ভালো হবে। বিদ্যমান আইন সংশোধন না করেও দুদককে ক্ষমতা দেওয়া যেতে পারে।

এক্ষেত্রে আইনের শিডিউলে দুদকের নামটা তুলে দিলেই আমাদের কাজটা করতে পারব। প্রয়োজনে অপর সংস্থাগুলোও অনুসন্ধান-তদন্ত করতে পারে। সেক্ষেত্রে দুদক সমন্বয় করে কাজ করবে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, মানি লন্ডারিং আইনে দুদকের ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগটাকে আমি সর্বাত্মক সমর্থন করি।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দুর্নীতি ও অর্থ পাচার যেখানে সাফল্যের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা গেছে, সেসব দেশে দুদকের মতো দুর্নীতিবিরোধী রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোই মূল দায়িত্ব পালন করে। ২০১৩ সালে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরতে দুদকের একটি সাফল্য রয়েছে।

এরপর আর কোনো সাফল্যের নজির সৃষ্টি হয়নি। এর অন্যতম কারণ হলো সংস্থাগুলোর নিজেদের মধ্যে সদিচ্ছার অভাব ও পারস্পরিক যোগাযোগের অভাব। ওই সময় সিঙ্গাপুর থেকে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনা হয়েছে, তখন আইনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা দুদকের হাতেই ছিল।

ফলে দুদক অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাচারকৃত অর্থ ফেরত এনেছে। কিন্তু মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সংশোধনী এনে দুদকের কাছ থেকে অনুসন্ধান ও তদন্তের ক্ষমতা নেওয়ার পর পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া ভেঙে পড়েছে।

কাজেই দুদকের হাতকে আরও সম্প্রসারিত করা দরকার। দুদকের একার পক্ষে সব কাজ করা হয়তো সম্ভব নয়। অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যাতে দুদক ওইসব অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত করতে পারে-এমন উপযোগী আইনি কাঠামো দরকার।

আইনি ক্ষমতা যখন যার হাতে : সর্বপ্রথম ২০০২ সালে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন জাতীয় সংসদে পাশ হয়। এ আইনে বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি মানি লন্ডারিং অপরাধ তদন্ত করতে পারতেন।

এরপর মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০২ বাতিল করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০০৮ জারি করা হয়। এই অধ্যাদেশের অধীন ১৭টি পেডিকেট অফেন্স থেকে উদ্ভূত সব মানি লন্ডারিং এককভাবে শুধু দুদক কর্তৃক তদন্তযোগ্য ছিল।

এই অধ্যাদেশ বাতিল করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০৯ জাতীয় সংসদে পাশ হয়। এ আইনেও সব মানি লন্ডারিং এককভাবে শুধু দুদক কর্তৃক তদন্তযোগ্য ছিল। এরপর মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০৯ বাতিল করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০১২ জারি করা হয়।

যা পরবর্তীকালে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ হিসেবে জাতীয় সংসদে পাশ হয়। ২০১২ সালের সংশোধিত আইনে ১৭টি সম্পৃক্ত অপরাধের পরিবর্তে ২৭টি সম্পৃক্ত অপরাধ প্রতিস্থাপন করা হয় এবং এসব অপরাধ এককভাবে দুদক কর্তৃক তদন্তযোগ্য করা হয়।

অর্থাৎ ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের শুরুতে সব সম্পৃক্ত অপরাধের অনুসন্ধান-তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত একমাত্র সংস্থা ছিল দুদক। ২০১৫ সালে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধন করা হয়।

ওই সংশোধনীর মাধ্যমে ২৭টি সম্পৃক্ত অপরাধের মধ্যে শুধু একটি (ঘুস ও দুর্নীতি) অপরাধের অনুসন্ধান-তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এটি ২০১৬ সালের ২১ জুন দুদক আইনে তফশিলভুক্ত করা হয়।

২৭ অপরাধের তদন্তে ৭ সংস্থা : মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ২৭টি পেডিকেট অফেন্স অনুসন্ধান-তদন্তের জন্য ৭টি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ অনুসারে ওই ছয়টি সংস্থা তাদের ওপর নির্ধারিত পেডিকেট অফেন্সের অনুসন্ধান-তদন্ত করবে।

বিধিমালা অনুসারে ‘দুর্নীতি ও ঘুস’- এই ১টি সম্পৃক্ত অপরাধের অনুসন্ধান-তদন্তভার এককভাবে দুদককে দেওয়া হয়েছে। এনবিআরকে ১টি- ‘কর সংক্রান্ত অপরাধ’ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে ১টি- ‘পুঁজিবাজার সংক্রান্ত অপরাধ (ইনসাইডার ট্রেডিং অ্যান্ড মার্কেট মানিপুলেশন)’ এককভাবে অনুসন্ধান-তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

আর ‘মুদ্রা জালকরণ’, ‘দলিল দস্তাবেজ জালকরণ’, ‘চাঁদাবাজি’, ‘প্রতারণা’, ‘জালিয়াতি’, ‘অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা’, ‘অপহরণ, অবৈধভাবে আটকে রাখা ও পণবন্দি করা’, ‘খুন ও মারাত্মক শারীরিক ক্ষতি’, ‘নারী ও শিশু পাচার’, ‘চুরি/ডাকাতি/দস্যুতা/জলদস্যুতা/বিমান দস্যুতা’, ‘মানব পাচার’, ‘যৌতুক’, ‘মেধাস্বত্ব লংঘন’, ‘সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থ জোগান’, ‘ভেজাল বা স্বত্ব লংঘন করে পণ্য উৎপাদন’, ‘যৌন নিপীড়ন’, ‘সংঘবদ্ধ অপরাধ’, ‘ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়’- এই ১৮টি সম্পৃক্ত অপরাধের অনুসন্ধান-তদন্তভার এককভাবে সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বাকি ৬টি সম্পৃক্ত অপরাধের অনুসন্ধান ও তদন্তের ক্ষমতা যৌথভাবে দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো- ‘অবৈধ মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবসা’- এই সম্পৃক্ত যৌথভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও সিআইডি; ‘চোরাই ও অন্যান্য দ্রব্যের অবৈধ ব্যবসা’- বাংলাদেশ কাস্টমস ও সিআইডি; ‘চোরাকারবার’- এনবিআর ও সিআইডি; ‘দেশি ও বিদেশি মুদ্রা পাচার’- এনবিআর ও সিআইডি; ‘চোরাচালান ও শুল্ক সংক্রান্ত অপরাধ’- এনবিআর ও সিআইডি; ‘পরিবেশগত অপরাধ’- পরিবেশ অধিদপ্তর ও সিআইডিকে যৌথভাবে অনুসন্ধান-তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

হাইকোর্টের রায়ে তদন্তের ক্ষমতা দুদকের : ২০১৭ সালের ২৪ মে হাইকোর্টের এক রায়ে দুদককে মানি লন্ডারিং আইনের সব সম্পৃক্ত অপরাধের অনুসন্ধান-তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। রায়ে দুর্নীতি বলতে বাংলা একাডেমি অনুসারে নীতিবিরুদ্ধ; কুনীতি; অসদাচরণকে বোঝানো হয়েছে।

একই সঙ্গে রায়ে ‘অ্যানি ফরম অব দুর্নীতি’র (যে কোনো প্রকার দুর্নীতি) অনুসন্ধান-তদন্তের ক্ষমতা দুদককে দেওয়া হয়েছে। এতে করে দুদক চাইলেই মানি লন্ডারিং আইনের যে কোনো অপরাধের অনুসন্ধান-তদন্ত করতে পারবে।

তবে এ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দুদক তা ব্যবহার করতে নারাজ। কারণ সংবিধানের পাশাপাশি বিদ্যমান বিভিন্ন আইনে ফৌজদারি এক অপরাধের জন্য দুইবার শাস্তি না দেওয়ার বিধান রয়েছে। মূলত রাষ্ট্রীয় অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলছে কমিশন। 

দুদকের অপারগতা যেখানে : প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারস ও গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্সসহ অন্যান্য সংস্থার সমীক্ষায় দেখা যায়, সিংহভাগ (প্রায় ৮০ শতাংশ) অর্থ পাচার হয়ে থাকে ব্যবসা-বাণিজ্য বা আমদানি-রপ্তানির আড়ালে (ট্রেড বেসড)।

বিদ্যমান আইনে এখতিয়ার না থাকায় এ ধরনের অর্থ পাচারের অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনুসন্ধান-তদন্ত করতে পারছে না। ফলে পানামা পেপারস, প্যারাডাইস পেপারস, পেন্ডোরা পেপারস, অবৈধ সম্পদের অন্যতম গন্তব্যস্থল মালয়েশিয়ার মাই সেকেন্ড হোম প্রকল্প, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাতে অর্থ পাচারের মতো অনুসন্ধান-তদন্ত করা যাচ্ছে না।

এসব অর্থ ও সম্পদ অবৈধ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে বিদেশে আমদানি-রপ্তানির অবৈধ ব্যবহারের মাধ্যমে অথবা ইনফরমাল (নন-ব্যাংকিং) চ্যানেলে পাচার করা হয়েছে। যা মানি লন্ডারিং আইন ও বিধিতে উল্লিখিত সম্পৃক্ত অপরাধের ক্রমিকে ১৪নং অপরাধ (দেশি ও বিদেশি মুদ্রা পাচার)। এ ধরনের অপরাধ তদন্তের দায়িত্ব সিআইডি ও এনবিআরের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

এসব ক্ষেত্রে দুদদ অর্থ পুনরুদ্ধারে আইন অনুসারে ক্ষমতাপ্রাপ্ত নয়।

যেসব পরিবর্তন চাইবে দুদক : অর্থ পাচার ঠেকাতে ও পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য বিদ্যমান আইনের বিধিমালা সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে দাবি কমিশনের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ২(ঠ) এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা ২০১৯-এর তফশিলে বর্ণিত অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য নির্ধারিত সংস্থার যে তালিকা দেওয়া হয়েছে তা সংশোধন করতে হবে।

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা ২০১৯-এর তফশিলে বর্ণিত অনুসন্ধান-তদন্তের জন্য নির্ধারিত সংস্থার তালিকায় ক্রমিক ৩, ৫, ৬, ১৪, ১৮, ১৯ এবং ২৫ অর্থাৎ যথাক্রমে দলিল দস্তাবেজ জালকরণ, প্রতারণা, জালিয়াতি, দেশি ও বিদেশি মুদ্রা পাচার, শুল্ক সংক্রান্ত অপরাধ, কর সংক্রান্ত অপরাধ, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত অপরাধ থেকে উদ্ভূত মানি লন্ডারিং তদন্তের ক্ষেত্রে অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি দুদককে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। দুদক আইনানুগভাবে এসব মানি লন্ডারিং অপরাধ তদন্তে এখতিয়ার সম্পন্ন হলে দেশ থেকে অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

পাচারকৃত অর্থ ফেরতের একমাত্র নজির : দুদকই একমাত্র সংস্থা যে সংস্থাটি বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত এনে নজির সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি আরও কিছু অর্থ ফের আনা প্রক্রিয়াধীন।

এছাড়া বিদেশেও কিছু অর্থ ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করা হয়েছে। বাকি সংস্থাগুলো বিদেশ থেকে অর্থ ফেরত এনে অদ্যাবধি এ নজির সৃষ্টি করতে পারেনি। বিদেশে পাচারকৃত অপরাধলব্ধ সম্পদের মধ্যে ২০১৩ সালে দুদক আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২১ কোটি টাকা ফেরত এনেছে।

বিএনপির প্রয়াত নেতা আরাফাত রহমান কোকোর এক মামলায় এই অর্থ ফেরত এসেছে। আরও ১৬ মিলিয়ন হংকং ডলার হংকং থেকে পুনরুদ্ধারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খানের বিরুদ্ধে করা এক মামলায় এই অর্থ পুনরুদ্ধারের বিয়ষটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী খোন্দকার মোশাররফ হোসেনের মামলায় প্রায় ৮০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে করা মামলায় আরও প্রায় ৬ কোটি টাকা যুক্তরাজ্য থেকে ফেরত আনার জন্য আদেশ দিয়েছেন আদালত।

 74 total views,  2 views today

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের, তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Top